প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পরেই বাংলার রাজনৈতিক সমীকরণ আমূল বদলে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলল। রবিবার হায়দ্রাবাদ থেকে এক বড়সড় ঘোষণা করলেন অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (AIMIM) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েসি। মুর্শিদাবাদের প্রভাবশালী নেতা তথা ভরতপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নবগঠিত দল ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)-র সঙ্গে জোটের আনুষ্ঠানিক সিলমোহর দিলেন তিনি। এই নতুন জোটের ফলে বিশেষ করে সংখ্যালঘু প্রধান জেলাগুলিতে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ফাটল ধরার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
হুমায়ুন কবীরকে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বহিষ্কার করার পর থেকেই তিনি দলের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে মুর্শিদাবাদ জেলার সংগঠন নিয়ে সরব হয়েছিলেন। ভরতপুরের এই প্রাক্তন বিধায়কের নিজস্ব অনুগামী সংখ্যা নেহাত কম নয়। এবার সেই শক্তির সঙ্গে আসাদউদ্দিন ওয়েসির ‘মিম’-এর সাংগঠনিক ধার যুক্ত হওয়ায় তা শাসক শিবিরের জন্য অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দিচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংখ্যালঘু ভোট যদি এই জোটের দিকে সামান্যও ঝুঁকে যায়, তবে অনেক আসনেই তৃণমূলের জয়ের ব্যবধান কমে যাবে বা ফল উল্টে যেতে পারে।
রবিবার প্রকাশিত আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক দেখা গেছে দুটি কেন্দ্রে। প্রথমটি হলো কলকাতার ভবানীপুর, যা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজের গড়। এই হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রে হুমায়ুন কবীরের দল প্রার্থী করেছে পুনম বেগমকে। তবে সবচেয়ে বেশি শোরগোল ফেলেছে কান্দি কেন্দ্রের প্রার্থী নির্বাচন। সেখানে জোটের টিকিটে লড়ছেন কলকাতা পুরসভার মেয়র তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন জামাতা ইয়াসিন হায়দার। ঘরের মানুষের এই বিদ্রোহ ফিরহাদ হাকিম তথা তৃণমূলের জন্য চরম অস্বস্তিকর।
জোটের কান্ডারি হুমায়ুন কবীর নিজেই নিজের লড়াইয়ের ময়দান বেছে নিয়েছেন অত্যন্ত সতর্কতার সাথে। এদিন তিনি ঘোষণা করেছেন, তিনি এককভাবে দুটি কেন্দ্র থেকে লড়ছেন—রেজিনগর এবং নওদা। নিজের জেলায় নিজের দাপট বজায় রাখতেই তিনি এই ঝুঁকি নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। এছাড়াও ভরতপুর আসনে প্রার্থী করা হয়েছে সৈয়দ খুবাইব আমিনকে, যিনি হুমায়ুনের পুরনো দুর্গে জোটের পতাকা ওড়াবেন।
এই জোটের লক্ষ্যমাত্রা বেশ সুদূরপ্রসারী। আম জনতা উন্নয়ন পার্টি রাজ্যের মোট ১৮২টি আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে, যার মধ্যে ১৫৩ জন প্রার্থীর নাম ইতিমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, আসাদউদ্দিন ওয়েসির দল মিম পশ্চিমবঙ্গের প্রায় ৮টি গুরুত্বপূর্ণ আসনে তাদের প্রার্থী দেবে। মূলত মুর্শিদাবাদ, মালদা, দুই দিনাজপুর এবং দুই ২৪ পরগনার সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় এই জোট নির্ণায়ক ভূমিকা নিতে পারে। এর ফলে ভোট কাটাকাটির অংকে বিজেপি কোনো বাড়তি সুবিধা পায় কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
আগামী ২৫ মার্চ কলকাতায় হুমায়ুন কবীর ও মিম প্রতিনিধিরা এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন করবেন। সেখানে এই জোটের ভবিষ্যৎ রূপরেখা, প্রচারের কৌশল এবং কোনো বড় জনসভার ডাক দেওয়া হবে কি না, তা জানা যাবে। এখন ২০২৬-এর মহাযুদ্ধে এই নতুন ‘কাঁটা’ দিদির জয়ের পথে কতটা বাধা হয়ে দাঁড়ায়, সেটাই দেখার বিষয়।