প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে রামনবমী উদযাপনকে কেন্দ্র করে চরমে উঠল উত্তেজনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে পুজোর অনুমতি না মেলায়, শেষপর্যন্ত প্রধান ফটকের বাইরেই ‘রাম-দরবার’ বসিয়ে উৎসব পালন করলেন একদল পড়ুয়া। কর্তৃপক্ষের নিষেধাজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রাজপথেই চললো আরতি ও জয় শ্রীরাম ধ্বনি।

এদিন সকাল থেকেই কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাস চত্বরে নিরাপত্তা ছিল তুঙ্গে। ABVP সমর্থিত পড়ুয়ারা ক্যাম্পাসের ভেতরে রামনবমী ও শোভাযাত্রার আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই আবেদন মঞ্জুর করেনি।কর্তৃপক্ষের সাফাই, “বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শুধুমাত্র সরস্বতী পুজো ছাড়া অন্য কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অনুমতি নেই”। তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ উদ্যোক্তা ছাত্ররা। তাঁদের দাবি, যদি এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ঘটা করে ‘ইফতার’ পালিত হতে পারে, তবে রামনবমীতে কেন এই বাধা? পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষের এই ‘একচোখা’ নীতি আসলে বিশেষ একটি পক্ষকে তুষ্ট করার চেষ্টা। এই বৈষম্যের প্রতিবাদেই তাঁরা গেটের বাইরে পুজো করার সিদ্ধান্ত নেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট আটকে দেওয়ায় ছাত্রছাত্রীরা রাস্তার ধারেই শ্রীরামচন্দ্রের ছবি ও মূর্তি স্থাপন করে যজ্ঞ শুরু করেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এলাকায় মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। গত দু’বছর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রামনবমী নিয়ে যে ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি রুখতেই এই কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

পুলিশি ঘেরাটোপের মধ্যেই চলে আরতি ও পুষ্পাঞ্জলি। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের ধর্মীয় অধিকার পালন করতে চেয়েছিলাম। পাঁচিল তুলে বা পুলিশ দিয়ে ভক্তের বিশ্বাস আটকানো যায় না।” সাধারণ পথচারীদের অনেকেই এই পুজোয় শামিল হন।
বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন নিয়ে এই বিতর্ক আগামী দিনে কোন মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। তবে আজকের এই ঘটনা যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।