প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল স্থির করতে ফের বাংলায় পা রাখলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার রাতে প্রকৃতির প্রবল প্রতিকূলতা ও কালবৈশাখীর ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে মধ্যরাতের পর কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করল তাঁর বিশেষ বিমান। বিমান অবতরণে প্রায় দুই ঘণ্টা দেরি হলেও, বঙ্গ বিজেপি শিবিরের উৎসাহে কোনো খামতি ছিল না।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার রাত ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ শাহের বিমানের অবতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু ঠিক সেই সময়েই কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় আছড়ে পড়ে মরসুমের শক্তিশালী কালবৈশাখী। ঝোড়ো হাওয়া ও বজ্রবিদ্যুতের কারণে এটিসি থেকে সবুজ সংকেত না মেলায় দীর্ঘক্ষণ কলকাতার আকাশে চক্কর কাটতে থাকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিমান। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া কিছুটা শান্ত হলে রাত ১টা ৪৬ মিনিটে নিরাপদে রানওয়ে স্পর্শ করে তাঁর বিমান। বিমানবন্দরে তাঁকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত ছিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং শমীক ভট্টাচার্য। রাত ২টো নাগাদ কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে তিনি নিউ টাউনের একটি হোটেলের উদ্দেশ্যে রওনা হন।
রাজনৈতিক মহলের সব নজর এখন নিউ টাউনের সেই হোটেলের দিকে। বিজেপি সূত্রের খবর, আজ শনিবার দুপুর ১২টা নাগাদ সেখানে এক গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ সম্মেলন করবেন অমিত শাহ। আর সেখানেই তৃণমূল সরকারের বিগত বছরগুলোর শাসনের বিরুদ্ধে এক বিস্ফোরক ‘চার্জশিট’ বা অভিযোগনামা পেশ করতে চলেছেন তিনি। এই নথিতে নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি থেকে শুরু করে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি—নানা ইস্যুকে হাতিয়ার করা হতে পারে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আজকের এই চার্জশিট প্রকাশ স্রেফ একটি রুটিন কর্মসূচি নয়। এটি আদতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক রণহুঙ্কার। শাহের এই সফরের মাধ্যমেই বিজেপি বুঝিয়ে দিতে চায়, তারা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ। আজকের এই সংবাদ সম্মেলনে তিনি নতুন কোনো বড় দুর্নীতির পর্দাফাঁস করবেন কি না, তা নিয়েই এখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর জল্পনা। মধ্যাহ্নভোজের পর বিকেলেই তাঁর দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।