প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
পশ্চিম এশিয়ায় ঘনিয়ে আসা যুদ্ধের কালো মেঘ এবং তার জেরে বিশ্বজুড়ে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকটের আবহে দেশবাসীর উৎকণ্ঠা দূর করতে ময়দানে নামলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুক্রবার বিকেলে সমস্ত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে এক জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকে বসেন তিনি। দীর্ঘ দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই হাই-ভোল্টেজ বৈঠকের পর সাধারণ মানুষের মনে একটাই বড় প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল— তবে কি ফের দেশে ফিরছে লকডাউন?
বৈঠক সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, দেশে কোনো ধরণের লকডাউন হওয়ার সম্ভাবনা নেই। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ শৃঙ্খলে কিছুটা প্রভাব পড়লেও, তার জন্য জনজীবন থমকে দেওয়ার মতো কোনো কঠোর পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করছে না। এই বিষয়ে ছড়িয়ে পড়া সমস্ত গুজবকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন যাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো আতঙ্ক না ছড়ায়।
প্রধানমন্ত্রী এদিন কোভিড-১৯ মহামারীর স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, বর্তমানের এই আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলা করতে কেন্দ্র ও রাজ্যকে একযোগে ‘টিম ইন্ডিয়া’ হিসেবে কাজ করতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “সমন্বয়ই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।” বিশেষ করে জ্বালানি তেল এবং রান্নার গ্যাসের জোগান স্বাভাবিক রাখতে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, পশ্চিমবঙ্গসহ যে ৫টি রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন আসন্ন, নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে সেই রাজ্যগুলির মুখ্যমন্ত্রীরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না। তবে সূত্রের খবর, ওই রাজ্যগুলির প্রশাসনিক সমন্বয় বজায় রাখতে ক্যাবিনেট সচিবালয় পৃথকভাবে মুখ্য সচিবদের সঙ্গে আলোচনা করবে।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আকাশছোঁয়া দাম এবং কৃত্রিম সংকট। প্রধানমন্ত্রী কড়া নির্দেশ দিয়েছেন যে, যুদ্ধের অজুহাত দেখিয়ে কেউ যাতে জ্বালানি তেল, সার বা ভোজ্য তেলের কালোবাজারি করতে না পারে, তার জন্য রাজ্য প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা মজুতদারি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, ভারতে বর্তমানে পর্যাপ্ত পরিমাণ জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাণিজ্যিক এলপিজি-র (LPG) কোটা বাড়িয়ে ৭০ শতাংশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা থাকলেও দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারত যে কোনো আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সক্ষম, যদি প্রতিটি রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে একজোট হয়ে কাজ করে। এই বৈঠকের পর দেশজুড়ে যে লকডাউনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তাতে আপাতত ইতি পড়ল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।