প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন কি তবে বাংলার চিরচেনা ভোট-যুদ্ধের সংজ্ঞাই বদলে দিতে চলেছে? ভোটের দামামা বাজার আগেই এমন এক ডিজিটাল ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিল কমিশন, যা নিয়ে এখন তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে। গতকাল রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (CEO) মনোজ আগরওয়াল যে ঘোষণা করলেন, তাকে এককথায় বিরোধীদের জন্য বড় স্বস্তি আর কারচুপিকারীদের জন্য ‘ডিজিটাল চেকমেট’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এবার নজরদারিতে কোনও ফাঁক রাখা হবে না। রাজ্যের প্রতিটি বুথ—অর্থাৎ ৮০ হাজার ৭১৯টি কেন্দ্রের প্রতিটিতেই হবে ১০০ শতাংশ লাইভ ওয়েবকাস্টিং। বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা। এর আগে স্পর্শকাতর বুথগুলিতে নজরদারি চললেও, এবার একটিও বুথ বাদ যাবে না। এর অর্থ হলো, বুথের ভেতরে ঠিক কী ঘটছে, তা সশরীরে উপস্থিত না থেকেও সরাসরি (Live) দেখতে পাবেন কমিশনের শীর্ষ কর্তারা। দিল্লির জাতীয় নির্বাচন কমিশন এবং কলকাতার সিইও অফিস থেকে প্রতিটি বুথের প্রতি মুহূর্তের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হবে।
তবে আসল রহস্য দানা বেঁধেছে সিসিটিভি ক্যামেরার অবস্থান এবং সংখ্যা নিয়ে। প্রতিটি বুথের ভেতরে এবং বাইরে বসানো হচ্ছে একাধিক হাই-টেক ক্যামেরা। ভোটদান কক্ষের গোপনীয়তা বজায় রেখেও এমনভাবে ক্যামেরা সেট করা হবে, যাতে কোনো বহিরাগত বা অননুমোদিত ব্যক্তি ভেতরে ঢুকলেই তা ধরা পড়ে যায়। শুধু তাই নয়, বিশেষ প্রয়োজনে বা বুথের আয়তন বড় হলে সেখানে একের বেশি ক্যামেরাও হানা দেবে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মনোজ আগরওয়াল। এমনকি বুথের বাইরের লাইনে কোনো বিশৃঙ্খলা হচ্ছে কি না, তার ওপরেও থাকবে সজাগ দৃষ্টি।
ইতিমধ্যেই এই বিপুল পরিমাণ সিসিটিভি ক্যামেরার জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সেরে ফেলেছে কমিশন। ঠিক কত লক্ষ ক্যামেরা শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে। তবে সূত্রের খবর, এই নজরদারি ব্যবস্থা এমনভাবে সাজানো হচ্ছে যাতে বুথের ভেতরের অতি সামান্যতম অনিয়মও এড়ানো সম্ভব না হয়। কন্ট্রোল রুম থেকে সরাসরি নজরদারির ফলে নিমিষের মধ্যেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব হবে। এক কথায় বলতে গেলে, ভোট লুঠেরাদের জন্য এটি এক অদৃশ্য ‘ডিজিটাল ফাঁদ’। প্রযুক্তিগত ত্রুটি এড়াতে প্রতিটি বুথে হাই-স্পিড ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হচ্ছে।
বাংলার ভোট মানেই বুথ দখল বা ছাপ্পা ভোটের যে অভিযোগ বারবার ওঠে, কমিশনের এই ‘অদৃশ্য চোখ’ কি তা রুখতে পারবে? রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, প্রতিটি বুথকে প্রযুক্তির জালে মুড়ে ফেলে আসলে পেশিবল প্রদর্শনকারীদের আগাম সতর্কবার্তা দিয়ে রাখল কমিশন। খরচ যতই হোক, এবার স্বচ্ছতার প্রশ্নে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে রাজি নন মনোজ আগরওয়ালরা। আগে অনেক সময় প্রমাণের অভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যেত না, কিন্তু এবার ওয়েবকাস্টিংয়ের ফুটেজ হবে অকাট্য প্রমাণ।
এখন বড় প্রশ্ন—প্রযুক্তির এই সাঁড়াশি আক্রমণ কি সত্যিই বদলে দিতে পারবে বাংলার ভোটের চেনা রীতিনীতি? না কি এর পাল্টা কোনও কৌশল তৈরি করবে রাজনৈতিক দলগুলো? ভোট লুট রুখতে কমিশনের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য। উত্তরের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে ভোটযন্ত্র বা ইভিএম খোলার দিন পর্যন্ত।