প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বাংলার রাজনীতিতে দলবদলের খেলা কিংবা গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নতুন কিছু নয়। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে এবার ঢুকে পড়ল ‘পাউডার’ আর ‘স্নো’! হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চুঁচুড়ার বিদায়ী বিধায়ক অসিত মজুমদারের মধ্যেকার সাম্প্রতিক দ্বন্দ্ব এখন টলিউডের মেগা সিরিয়ালকেও হার মানাচ্ছে। রাজনৈতিক মহলে রসিকতা শুরু হয়েছে—উন্নয়ন নয়, হুগলিতে এখন লড়াই চলছে গ্ল্যামার বনাম ঘাম-রক্তের মাটির মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার!
পুরো ঘটনার সূত্রপাত চুঁচুড়ার দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা বিধায়ক অসিত মজুমদারের এক বিস্ফোরক মন্তব্যে। তিনি প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন তাঁরই দলের সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। অসিতবাবুর মূল আক্ষেপ—তিনি রোদে পুড়ে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে দল করেন। তাঁর সোজাসাপ্টা তোপ, “আমি তো আর ওঁর মতো সেজেগুঁজে পাউডার-স্নো মেখে দল করি না!” এই একটি বাক্যেই যেন রাজনীতির আঙিনায় রূপচর্চা বনাম রাজনীতির লড়াইটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিধায়কের দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তিলে তিলে গড়ে তোলা ‘সাজানো বাগান’ নাকি সাংসদ একাই ধ্বংস করে দিচ্ছেন।
বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলে এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই হাসির রোল উঠেছে। পদ্ম শিবিরের নেতারা আড়ালে বলছেন, যারা নিজেদের মেকআপ আর পাউডার সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, তারা সাধারণ মানুষের ট্যাক্সের টাকা আর জেলার উন্নয়ন সামলাবে কী করে? গেরুয়া শিবিরের মতে, উন্নয়নের দাবি তো এখন অতীত, ঘাসফুলের অন্দরে এখন আসল লড়াই কে কার কত বেশি ‘কান ভাঙাতে’ পারেন তা নিয়ে।
অসিত মজুমদারের অভিযোগের ঝুলি বেশ দীর্ঘ। তিনি দাবি করেছেন, সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি তাঁকে কার্যত ‘ব্রাত্য’ করে রেখেছেন। কোনো মিটিং বা মিছিলে তাঁকে ডাকার প্রয়োজন মনে করছেন না গ্ল্যামারাস এই নেত্রী। উল্টে দলনেত্রীর কাছে নাকি বিধায়কের নামে ভুল রিপোর্ট পাঠানো হচ্ছে। অর্থাৎ, রিয়েলিটি শো-র জনপ্রিয় সঞ্চালিকা রাজনীতির স্ক্রিপ্টটা বোধহয় একটু অন্যভাবে লিখছেন, যেখানে পুরনো সৈনিকদের জন্য খুব একটা জায়গা নেই। চূচূড়ার প্রার্থী দেবাংশু ভট্টাচার্যের ফল যদি আশানুরূপ না হয়, তবে তার দায়ও আগেভাগেই রচনার কাঁধে চাপিয়ে দিয়েছেন ক্ষুব্ধ বিধায়ক।
সাধারণ ভোটারদের কাছে এই বিবাদ এখন বিকেলের চায়ের আড্ডার সেরা মশলা। এলাকার মানুষ বলছেন, একদিকে যখন বেহাল রাস্তা আর জল নিকাশি নিয়ে সরব হওয়ার কথা, তখন নেতারা ব্যস্ত একে অপরের প্রসাধনী নিয়ে চর্চায়। সাংসদ কি আসলেই বিধায়ককে উপেক্ষা করছেন, নাকি বিধায়ক মহাশয় নিজের রাজনৈতিক জমি হারানোর ভয়ে এমন আক্রমণাত্মক হচ্ছেন, তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
তৃণমূলের অন্দরের এই গৃহযুদ্ধকে কটাক্ষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিম-এর বন্যা বয়ে যাচ্ছে। কেউ লিখছেন, “দিদি নম্বর ১-এর শো-তে কি এবার বিধায়ক সাহেবকে চ্যালেঞ্জার হিসেবে ডাকা হবে?” আবার কেউ বলছেন, “রাজনীতিতে কি এবার মেকআপ কিট আবশ্যিক হতে চলেছে?”
সব মিলিয়ে হুগলির রাজনৈতিক আকাশ এখন মেঘলা। একদিকে গ্ল্যামারের ঝিলিক, অন্যদিকে পুরনো চালের ভাতে বাড়া দাপুটে নেতার অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। তবে এই ‘পাউডার ছোঁড়াছুড়ি’র খেলায় শেষ হাসি কে হাসবে? রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের লোকই যখন মাঝরাস্তায় হাঁড়ি ভাঙেন, তখন বাইরের লোকের আর কষ্ট করতে হয় না। ২০২৬-এর নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে গেলে এই ‘প্রসাধনী কোন্দল’ থামানোই এখন ঘাসফুল শিবিরের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এখন দেখার, সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ‘গুগলি’ কীভাবে সামলান। তিনি কি বরাবরের মতো মুচকি হেসে এড়িয়ে যাবেন, নাকি ‘পাউডার-স্নো’ বিতর্ক আরও বড় রাজনৈতিক ঝড়ের আকার নেবে? আপাতত উত্তরের অপেক্ষায় হুগলিবাসী।