প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণক্ষেত্র এবার খাস কলকাতা। আর সেই যুদ্ধের এপিসেন্টার বা কেন্দ্রবিন্দু— ভবানীপুর। রবিবার সন্ধ্যায় ভবানীপুর বিধানসভার ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের অলিগলিতে যখন বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী প্রবেশ করলেন, তখন এলাকা জুড়ে এক অন্যরকম উন্মাদনা। উপলক্ষ ছিল ‘গৃহ সম্পর্ক অভিযান’, কিন্তু পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছিল এ যেন এক বিজয়ী সেনাপতির নিজের এলাকায় প্রত্যাবর্তন।
রাজনৈতিক মহলের নজর এখন ভবানীপুরের দিকে থাকলেও, স্মৃতিতে টাটকা ২০২১ সালের সেই রোমাঞ্চকর লড়াই। শুভেন্দু অধিকারী সেই নেতা, যিনি বাংলার রাজনীতির খোলনলচে বদলে দিয়ে নন্দীগ্রামের মাটিতে স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন। ১৯৫৬ ভোটে সেই জয় ছিল বাংলার সমকালীন রাজনীতির সবথেকে বড় অঘটন। এবার সেই একই জেদ আর আত্মবিশ্বাস নিয়ে শুভেন্দু দাঁড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক বলে পরিচিত ভবানীপুরে। নন্দীগ্রামের সেই ‘জায়ান্ট কিলার’ ইমেজকে সঙ্গী করেই আজ তিনি চষে ফেললেন ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রতিটি গলি।
এদিন কোনো মঞ্চ বা মাইকের আস্ফালন ছিল না। শুভেন্দু অধিকারীকে দেখা গেল একেবারে সাধারণ মানুষের মেজাজে। ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের পদ্মপুকুর থেকে শুরু করে স্থানীয় বস্তি এলাকা— সর্বত্রই তিনি পৌঁছে গেলেন মানুষের দরজায়। প্রবীণদের পা ছুঁয়ে প্রণাম করা আর শিশুদের কোলে তুলে নেওয়ার সেই পরিচিত ভঙ্গিমায় তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তিনি শুধু নেতা নন, তিনি মানুষের ঘরের লোক। গৃহ সম্পর্ক অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের এলাকার জল নিকাশি থেকে শুরু করে নিরাপত্তার অভাব— সমস্ত অভিযোগ উগরে দিলেন তাঁর কাছে।
প্রচার চলাকালীন শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “নন্দীগ্রামে মানুষ যেমন অহঙ্কার চূর্ণ করেছিলেন, ভবানীপুরের মানুষও এবার পরিবর্তনের সংকল্প নিয়েছেন। অনেকে ভাবছেন এটা কঠিন লড়াই, কিন্তু মনে রাখবেন লড়াই যত কঠিন হয়, জয়ের স্বাদ ততটাই মিষ্টি হয়। ৭৪ নম্বর ওয়ার্ডের এই মানুষের চোখেমুখে যে আশার আলো দেখছি, তাতে স্পষ্ট যে এবার পদ্ম ফুটবেই।”
ভবানীপুরের এই ওয়ার্ডটি মিশ্র জনবসতিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। বিগত নির্বাচনগুলোতে এখানে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গেছে। শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘ডোর-টু-ডোর’ ক্যাম্পেইন অত্যন্ত কৌশলগত। তিনি প্রতিটি বাড়ির ড্রয়িং রুমে পৌঁছে গিয়ে ভোটারদের এটা বোঝাতে চাইলেন যে, যাঁকে পরাজিত করে তিনি নন্দীগ্রামে ইতিহাস গড়েছিলেন, তাঁকে এবার তাঁর নিজের ঘরেই চ্যালেঞ্জ জানাতে প্রস্তুত বিজেপি।
শুভেন্দু অধিকারীর এই নিবিড় জনসংযোগ এবং নন্দীগ্রামের জয়ের সেই রেফারেন্স ভবানীপুরের রাজনৈতিক সমীকরণকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। গেরুয়া শিবিরের কর্মীদের মধ্যে এদিন ছিল উপচে পড়া আত্মবিশ্বাস। তাঁদের দাবি, দাদা (শুভেন্দু) মানেই জয়, আর সেই জয়ের রথ এবার ভবানীপুরের রাজপথ দিয়ে বীরদর্পে এগিয়ে চলেছে। আগামী ২৯শে এপ্রিল ভবানীপুরে ভোট। তার আগে শুভেন্দু অধিকারীর এই ঝটিকা সফর ও জনসংযোগ বিরোধী শিবিরকে যে যথেষ্ট চাপে রাখবে, তা বলাই বাহুল্য।