প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বসন্তের তপ্ত রোদে বঙ্গ রাজনীতির পারদ আজ মিটারে দাগ কাটতে চলেছে ঠিক দুপুর ১২টায়। ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের দামামা অনেক আগেই বেজেছে, কিন্তু আজ হলদিয়া শিল্পাঞ্চল দেখবে আসল ‘পিকচার’। নন্দীগ্রামের বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আজ তাঁর মনোনয়নপত্র পেশ করতে চলেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, আজ স্রেফ সই-সাবুদ নয়, আজ হলদিয়ার রাজপথে হবে শুভেন্দুর ‘হেভিওয়েট’ শক্তি প্রদর্শন।
আজকের সকালটা হলদিয়াবাসীর কাছে আর পাঁচটা সাধারণ সোমবারের মত নয়। শহরের প্রতিটা মোড়ে মোড়ে বিজেপি কর্মীদের ভিড়, গেরুয়া পতাকার দাপট আর দলীয় স্লোগানের হুঙ্কার। রাত পোহাতেই হলদিয়া যেন এক অঘোষিত রাজনৈতিক উৎসবের মেজাজে। চায়ের দোকানে আড্ডার বিষয় একটাই— “দাদা আজ কটার সময় ঢুকছেন?” হলদিয়া মহকুমা শাসকের দপ্তরের বাইরে সকাল থেকেই মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। ড্রোন ক্যামেরা থেকে শুরু করে কড়া নিরাপত্তা, সবকিছুই জানান দিচ্ছে আজ বড় কিছু একটা হতে চলেছে।
জানা যাচ্ছে, মনোনয়ন পেশের আগে শুভেন্দু অধিকারী এক বিশাল পদযাত্রা করবেন। হলদিয়ার বুক চিরে এই মিছিল যখন এগোবে, তখন রাস্তার দু’ধারে হাজার হাজার মানুষের ভিড় উপচে পড়বে বলে আশা করছে পদ্ম শিবির। রবিবার বিকেলেই কলকাতার মুরলীধর সেন লেনের কার্যালয় থেকে নিজের নির্বাচনী প্রতীক সংগ্রহ করেছেন তিনি। আজ সেই প্রতীক হাতে নিয়েই তিনি মহকুমা শাসকের দপ্তরের সিঁড়ি ভাঙবেন। সঙ্গে থাকছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী জেপিএস রাঠোর এবং বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। এই হাই-প্রোফাইল উপস্থিতিতে আজকের মনোনয়ন প্রক্রিয়া কার্যত এক বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশে পরিণত হতে চলেছে।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামের সেই ঐতিহাসিক লড়াই এখনও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। এবার লড়াইটা আরও একটু আলাদা। এবার তিনি শুধু নন্দীগ্রাম আগলাচ্ছেন না, পাশাপাশি তৃণমূলের খাসতালুক ভবানীপুর থেকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাই আজকের এই মনোনয়ন পেশ আসলে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্রের পক্ষ থেকে নবান্নের উদ্দেশ্যে একটা কড়া বার্তা— “মাঠ ছাড়ছি না, লড়াই হবে সমানে সমানে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, হলদিয়া ও সংলগ্ন এলাকায় শুভেন্দুর ব্যক্তিগত ক্যারিশমা আজও অমলিন। আজকের এই বিশাল জমায়েত আদতে ভোটারদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলার একটা সুপরিকল্পিত কৌশল। অন্যদিকে, তৃণমূল শিবিরের দাবি, “এসব লোক দেখানো ভিড়, ভোটবাক্সে এর কোনো প্রভাব পড়বে না।” তবে পাল্টাপাল্টি যুক্তি যাই থাকুক না কেন, আজকের হলদিয়া যে কেবল শিরোনামে থাকবে না, বরং ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।
সব মিলিয়ে আজ দুপুর ১২টার সেই মাহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে গোটা রাজ্য। লড়াইটা কি ২০২৬-এ পরিবর্তনের মহড়া? নাকি আবারও সেই পুরনো সমীকরণের পুনরাবৃত্তি? উত্তর দেবে সময়। তবে আজকের হলদিয়া যে বঙ্গ রাজনীতির উত্তাপ কয়েক ডিগ্রি বাড়িয়ে দিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।