প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর মহাযুদ্ধের দামামা বেজে গিয়েছে। আর সেই রণক্ষেত্রের প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে সেনাপতির ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চলেছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে ভোটের বাংলায় তাঁর প্রথম জনসভার সূচিতে এক বিশেষ চমক ও কৌশলগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী ৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সভাটি আলিপুরদুয়ারে হওয়ার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে তা পরিবর্তিত হয়ে স্থির হয়েছে কোচবিহারের ঐতিহ্যবাহী রাসমেলা ময়দানে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, কোচবিহারের রাসমেলা মাঠ উত্তরবঙ্গের রাজনীতির এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু। রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের আবেগ—সবটাই এই মাঠকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। গত নির্বাচনেও এই জেলা বিজেপিকে দু’হাত উজাড় করে আশীর্বাদ করেছে। তাই প্রচারের শুরুটা আলিপুরদুয়ারের বদলে কোচবিহার থেকে করে মোদীজি আসলে গোটা উত্তরবঙ্গকে এক শক্তিশালী বার্তা দিতে চাইছেন। ৫ এপ্রিল কোচবিহারের মাটি থেকেই তিনি বাংলায় তাঁর নির্বাচনী প্রচারের শঙ্খনাদ করবেন।

কোচবিহারের জনসভা দিয়েই মোদীজির ঝটিকা সফর শেষ হচ্ছে না। ঠিক পাঁচ দিন পরেই, অর্থাৎ ১০ এপ্রিল তিনি পুনরায় পা রাখছেন উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়িতে। তবে সেদিন কোনো জনসভা নয়, বরং রাজপথে সরাসরি মানুষের ভিড়ে মিশে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। শিলিগুড়ির রাস্তায় হতে চলেছে এক বিশাল ‘রোড-শো’। কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ এই পদযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পা মেলাবেন কয়েক লক্ষ মানুষ, এমনটাই আশা করছে গেরুয়া শিবিরের নেতৃত্ব। শিলিগুড়ির এই রোড-শো উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে মোদীর ব্যক্তিগত ম্যাজিককে আরও একবার ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ করে দেবে।

প্রধানমন্ত্রীর সভার স্থান পরিবর্তনের খবর আসতেই কোচবিহার ও শিলিগুড়িতে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে তুঙ্গে। কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানকে নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলতে তৎপর এসপিজি (SPG) ও স্থানীয় প্রশাসন। অন্যদিকে, শিলিগুড়ির রোড-শো-কে বর্ণাঢ্য করে তুলতে ইতিমধ্যেই উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কর্মী-সমর্থকদের সমাগম শুরু হয়েছে। দলীয় নেতাদের মতে, “মোদীজির আসা মানেই মানুষের মনে নতুন আশার আলো। ৫ এপ্রিল কোচবিহার এবং ১০ এপ্রিল শিলিগুড়ি—এই দুই দিনই প্রমাণ করে দেবে উত্তরবঙ্গের মানুষ উন্নয়নের পক্ষে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। চা বলয় থেকে শুরু করে পাহাড় ও সমতলের সমীকরণ সাজাতে মোদীজির এই দুই কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আলিপুরদুয়ারের সভা বাতিল হওয়া মানেই সেখানে গুরুত্ব কমা নয়, বরং কোচবিহারকে ‘এপিসেন্টার’ করে গোটা উত্তরবঙ্গকে একসূত্রে বাঁধার রণকৌশল নিয়েছে বিজেপি।

এখন দেখার, ৫ এপ্রিল রাসমেলার মাঠে মোদীজির গলায় কী বার্তা শোনা যায় এবং ১০ এপ্রিল শিলিগুড়ির রাজপথ ঠিক কতটা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। সব মিলিয়ে, তপ্ত রোদের মধ্যেও বাংলার নির্বাচনী পারদ এখন তুঙ্গে।