প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
বিধানসভা নির্বাচনের আবহে উত্তরবঙ্গের চোপড়া ফের একবার রক্তাক্ত হয়ে উঠল। সোমবার উত্তর দিনাজপুরের চোপড়া বিধানসভার কাঁচাকালী এলাকায় দলীয় কর্মসূচি চলাকালীন বিজেপি কর্মীদের ওপর নজিরবিহীন হামলার অভিযোগ উঠলো তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। বিজেপির দাবি, পুলিশের অনুমতি নিয়ে এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে পতাকা লাগাতে গিয়েও রেহাই মেলেনি। বাঁশ ও লাঠি দিয়ে চালানো এই হামলায় মাথা ফেটে চৌচির হয়ে গিয়েছে বিজেপি মন্ডল সভাপতির। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় বেশ কয়েকজন কর্মী ইসলামপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

বিজেপির অভিযোগ অনুযায়ী, তাঁরা নিয়ম মেনে প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েই এলাকায় দলীয় পতাকা লাগানোর কাজ শুরু করেছিলেন। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে না তৈরি হয়, তার জন্য পুলিশকেও সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, পুলিশের সামনেই আচমকা তৃণমূল আশ্রিত একদল দুষ্কৃতী লাঠিসোঁটা নিয়ে বিজেপি কর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। বিজেপির দাবি, ঘটনাস্থলে কেন্দ্রীয় বাহিনী উপস্থিত থাকলেও এই রক্তক্ষয়ী হামলা আটকানো সম্ভব হয়নি। হামলায় ২ নম্বর মন্ডল সভাপতি সহ একাধিক সক্রিয় কর্মী রক্তাক্ত হন।

এই ঘটনার খবর পাওয়ামাত্রই রণংদেহি মেজাজে ধরা দেন বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা। তিনি সরাসরি চোপড়া থানায় উপস্থিত হয়ে ১০ জন তৃণমূল নেতার নামে লিখিত এফআইআর (FIR) দায়ের করেন। অভিযুক্তদের তালিকায় রয়েছেন চোপড়া পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতির স্বামী গোপাল ভৌমিকও। থানার সামনে দাঁড়িয়ে রাজু বিস্তা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “চোপড়াকে বারবার রাজনীতির কারণে বদনাম করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছি, পুলিশ যেন নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করে। যাদের নামে অভিযোগ জানানো হয়েছে, তাদের যেন আর চোপড়ায় দেখা না যায়।”

যদিও এই অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে শাসকদল। তৃণমূলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল এই বিষয়ে কোনো দায় নিতে অস্বীকার করেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, পুরো বিষয়টি পুলিশ দেখবে এবং তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই ঘটনার পর থেকে কাঁচাকালী ও সংলগ্ন এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিজেপির দাবি, এভাবে ভয় দেখিয়ে বা রক্ত ঝরিয়ে তাঁদের লড়াই থামানো যাবে না। অন্যদিকে, পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে যে অভিযোগ জমা পড়েছে এবং পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে।