প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
ভোটের ময়দানে পায়ের তলার মাটি কি তবে সত্যিই আলগা হচ্ছে? না হলে হঠাৎ কেন নিজের ‘ব্রাহ্মণ’ পরিচয়কে ঢাল করতে হচ্ছে খোদ তৃণমূল নেত্রীকে? পাশকুড়ার জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে এখন রাজ্য রাজনীতিতে হাসির রোল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, উন্নয়ন আর চাকরির প্রতিশ্রুতি যখন তলানিতে, তখন শেষমেশ ‘আবেগের ইমোশনাল কার্ড’ আর ‘জাতপাতের রাজনীতি’ই কি ঘাসফুল শিবিরের শেষ আশ্রয়?
পাশকুড়াতে সংখ্যালঘু প্রার্থী সিরাজ খাঁ-কে নিয়ে খোদ তৃণমূলের অন্দরেই ক্ষোভের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছিল। স্থানীয় কর্মীদের একাংশের অভিযোগ, যোগ্য হিন্দু প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও কেন সংখ্যালঘু প্রার্থীকে চাপিয়ে দেওয়া হলো? এই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে গিয়ে মমতা যা বললেন, তাতে কার্যত আকাশ থেকে পড়েছেন রাজনৈতিক কর্মীরা। তিনি দাবি করেছেন, “সিরাজ খাঁ-কে মুসলমান প্রার্থী ভাববেন না।” প্রশ্ন উঠছে, নাম-পরিচয় সব ঠিক থাকলেও নেত্রীর নির্দেশে কি রাতারাতি প্রার্থীর ধর্মীয় পরিচয় মুছে যাবে? ভোটারদের ক্ষোভ সামলাতে না পেরে শেষে নিজেকে ‘ব্রাহ্মণ বাড়ির মেয়ে’ বলে পরিচয় দিয়ে সহানুভূতি কুড়োতে চাইলেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, “আমি ব্রাহ্মণ ঘরের মেয়ে হওয়া সত্ত্বেও যদি মুসলিমরা আমায় মেনে নেয়, তবে হিন্দুরা কেন সংখ্যালঘু প্রার্থীকে মানবে না?” এখানে বিজেপির সোজাসাপ্টা প্রশ্ন— এতদিন যে ‘ধর্মনিরপেক্ষতা’র বুলি তৃণমূল আউড়ে এসেছে, সংকটে পড়ে কি সেই মুখোশটাই খুলে গেল? ভোট পাওয়ার জন্য কেন একজন মুখ্যমন্ত্রীকে নিজের জাত তুলে কথা বলতে হচ্ছে? এটা কি হিন্দুদের ধর্মীয় সুড়সুড়ি দিয়ে ভোট টানার এক মরিয়া চেষ্টা নয়? বিরোধীদের দাবি, মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক তো পকেটে আছেই, এখন হিন্দুদের ক্ষোভ প্রশমিত করতে নিজেকে ‘ব্রাহ্মণ’ বলে প্রমাণ করার এই তাগিদ আসলে রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার লক্ষণ।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভায় বলেছেন, হিন্দুরা মুখ ফিরিয়ে নিলে নাকি তাঁর ‘অসম্মান’ হবে। রাজনৈতিক মহলের মতে, এটা আসলে হারের আগাম আতঙ্ক। সন্দেশখালি থেকে শুরু করে নিয়োগ দুর্নীতি, কয়লা পাচার থেকে গরু পাচার— চারদিকে যখন তৃণমূলের কেলেঙ্কারি ফাঁস হচ্ছে, তখন মানুষের ক্ষোভকে ‘সাম্প্রদায়িকতা’র তকমা দিয়ে ঢাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছেন তিনি। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, গত এক দশকে রাজ্যে যে উন্নয়ন হয়েছে বলে দাবি করা হয়, তার বদলে কেন আজ শুধু ‘ব্রাহ্মণ’ পরিচয় দিয়ে চিঁড়ে ভেজাতে হচ্ছে?সিট বাঁচানোর মরিয়া লড়াইনেত্রী নিজেই স্বীকার করেছেন, “প্রত্যেকটা সিট আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।” এই কথাটিই প্রমাণ করে দেয় যে, তৃণমূল এখন একটি সিট হারানোকেও সহ্য করতে পারছে না। আর সেই কারণেই কখনও সংখ্যালঘু তোষণ, আবার কখনও নিজেকে হিন্দু বা ব্রাহ্মণ প্রমাণের এই ‘ব্যালেন্সিং অ্যাক্ট’ চলছে। কিন্তু বাংলার সচেতন ভোটাররা কি এই বিভাজনের রাজনীতিতে ভুলবেন?
সব মিলিয়ে, পাশকুড়ার সভা থেকে মমতার এই ‘ব্রাহ্মণ’ পরিচয় আর ‘সিরাজ খাঁ’ তত্ত্ব এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় মিমের খোরাক হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষ এখন দেখছে, দিদিমণির শেষ রক্ষা কি এই জাতপাতের রাজনীতিতে হয়, নাকি ২০২৬-এর আগেই ঘাসফুল শুকিয়ে যায়! এক সময় যারা বিজেপিকে ‘জাতপাতের দল’ বলে গালমন্দ করত, আজ ক্ষমতা রক্ষায় তারাই যে ধর্মের সংকীর্ণ গণ্ডিতে ঢুকে পড়েছে, তা বাংলার মানুষের কাছে পরিষ্কার।