প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
শেষরক্ষা আর হলো না! দক্ষিণ কলকাতার ত্রাস এবং শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকা সিন্ডিকেট ডন বলে পরিচিত বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুর দুর্ভেদ্য দুর্গে বুধবার সকালে আছড়ে পড়ল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সাতসকালে যখন শহরবাসী সবে চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন, ঠিক তখনই বালিগঞ্জ ও কসবার মোট ৬টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি শুরু করলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। সিআরপিএফ-এর বন্দুকের নলের পাহারায় এখন থরথর করে কাঁপছে বালিগঞ্জের ফার্ন রোডের বিলাসবহুল আবাসন থেকে শুরু করে একাধিক সিন্ডিকেট অফিস।
ইডি সূত্রে খবর, সোনা পাপ্পুর নির্মাণ ব্যবসার আড়ালে আসলে চলত কোটি কোটি টাকার তোলাবাজি। অভিযোগ উঠেছে, বালিগঞ্জের অশ্বিনী দত্ত রোডের ‘সান এন্টারপ্রাইজ’ নামক অফিসটি ছিল এই কালো টাকা লেনদেনের প্রধান স্নায়ুশহর। তদন্তকারীদের দাবি, দক্ষিণ কলকাতার কসবা, বালিগঞ্জ ও ঢাকুরিয়া এলাকায় যেকোনো বড় নির্মাণ কাজ বা প্রোমোটিং করতে গেলে সোনা পাপ্পুকে মোটা টাকা ‘সালামি’ দিতে হতো। আর এই তোলাবাজির টাকার একটি বড় অংশ নির্দিষ্ট চ্যানেলের মাধ্যমে শাসকদলের একাধিক ‘রাঘববোয়াল’ ও প্রভাবশালী নেতাদের ড্রয়িং রুমে পৌঁছে যেত বলে অভিযোগ। ইডি এখন সেই টাকার ‘রুট ম্যাপ’ বা যাত্রাপথ খুঁজে বের করতেই এই চিরুনি তল্লাশি চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস আগে গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোডে প্রকাশ্য দিবালোকে একটি চাঞ্চল্যকর শ্যুটআউটের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত হিসেবে নাম জড়িয়েছিল এই সোনা পাপ্পুর। অদ্ভুত বিষয় হলো, রাজ্য পুলিশ তাকে হন্যে হয়ে খুঁজছে বলে দাবি করলেও, এলাকার মানুষের অভিযোগ ছিল—সে আসলে বুক ফুলিয়েই এলাকায় ঘুরে বেড়াত। বিজেপির প্রশ্ন, “কার আশীর্বাদে পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে এতদিন বহাল তবিয়তে ছিল এই ডন?” আজ ইডির হানায় সেই তথাকথিত ‘নিরাপত্তা বলয়’ কার্যত চুরমার হয়ে গিয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, পলাতক অবস্থায় থাকাকালীনও কার নির্দেশে সোনা পাপ্পু তার তোলাবাজি সিন্ডিকেট চালিয়ে যাচ্ছিল।
এই অভিযানকে হাতিয়ার করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল ফেলে দিয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের রাজ্য নেতৃত্বের দাবি, “বাংলার সিন্ডিকেট রাজের শেকড় অনেক গভীরে। সোনা পাপ্পু তো কেবল একটা ঘুঁটি, আসল খেলোয়াড়রা বসে আছেন কালীঘাটে। ইডি এবার ঠিক সেই মাথার দিকেই এগোচ্ছে। আজ এই অভিযানের পর অনেক প্রভাবশালীরই রাতের ঘুম উড়ে যাবে।” বিজেপির স্পষ্ট ইঙ্গিত, এই তোলাবাজির টাকার ভাগ পৌঁছে যেত অনেক উঁচুতলায়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই দুর্নীতি ফাঁস হলে শাসকদল বড়সড় বিপাকে পড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
কসবা ও বালিগঞ্জের এই তল্লাশি কেবল একটি হিমশৈলের চূড়া মাত্র বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। যদি সোনা পাপ্পুর ডায়েরি বা ফোন থেকে কোনো হেভিওয়েট নেতার নাম বা আর্থিক লেনদেনের তথ্য মেলে, তবে তা বাংলার রাজনীতিতে ভূমিকম্প এনে দেবে। এখন দেখার, ইডির এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ শেষ পর্যন্ত কার কার গদি পুড়িয়ে ছারখার করে! সাধারণ মানুষের রক্তজল করা টাকা যারা লুটেছে, তাদের কি এবার জেলের ঘানি টানতে হবে? উত্তরের অপেক্ষায় গোটা বাংলা।