প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর মহাযুদ্ধে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র বদলে দিতে এবার সরাসরি ময়দানে আধুনিক ভারতের ‘চাণক্য’। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে কাল তিলোত্তমার রাজপথ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে চলেছে। আগামিকাল, ২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার কলকাতা তথা দক্ষিণবঙ্গের রাজনীতিতে এক বড়সড় পরিবর্তনের বার্তা দিতে শহরে পা রাখছেন শাহ। লক্ষ্য একটাই— ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর জয় নিশ্চিত করা এবং অগণিত দলীয় কর্মীদের মনে জয়ের নতুন মন্ত্র ফুঁকে দেওয়া।

বাংলার রাজনীতির লড়াকু মুখ তথা বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবার জোড়া কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিজের রাজনৈতিক গুরুত্ব আরও একবার প্রমাণ করেছেন। গত ৩০ মার্চ তিনি নিজের গড় অর্থাৎ নন্দীগ্রামে অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এবার তাঁর পাখির চোখ ভবানীপুর। আগামিকাল তিনি এই হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর দ্বিতীয় মনোনয়নপত্রটি জমা দেবেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দুর এই ‘দ্বৈত লড়াই’ আদতে রাজ্যের বর্তমান শাসনব্যবস্থার দুর্গে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়ার নামান্তর। তাঁর এই লড়াকু মেজাজকে পূর্ণ সমর্থন জানাতেই দিল্লি থেকে উড়ে আসছেন স্বয়ং অমিত শাহ।বিজেপি শিবির সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, কালকের দিনটি হতে চলেছে বঙ্গ রাজনীতির প্রচারের এক অনন্য নজির। হাজরা মোড় থেকে আলিপুরের সার্ভে বিল্ডিং পর্যন্ত আয়োজিত হয়েছে এক বিশাল রোড-শো। হাজরা মোড়, যা ঐতিহাসিক ভাবেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক রাজনৈতিক মিলনস্থল, সেখান থেকেই শুরু হবে এই মহা-পদযাত্রা। রাস্তার দুই ধারে ইতিমধ্যেই দলীয় পতাকায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি আর শঙ্খনাদে কালকের আকাশ-বাতাস মুখরিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তিলোত্তমা।

সূত্রের খবর, রোড-শো শুরু করার আগে হাজরা মোড়ে অমিত শাহ একটি সংক্ষিপ্ত অথচ লক্ষ্যভেদী ভাষণ দিতে পারেন। তাঁর সেই বক্তব্য থেকে ২০২৬-এর চূড়ান্ত লড়াইয়ের রণকৌশল স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, শুভেন্দু অধিকারী যখন তাঁর মনোনয়ন জমা দিতে যাবেন, তখন তাঁর সঙ্গে সশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেন অমিত শাহ। একজন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এভাবে প্রার্থীর মনোনয়ন পেশের সময় পাশে থাকা কেবল নিছক উপস্থিতি নয়, বরং এটি অত্যন্ত জোরালো এক সংকেত। এটি প্রমাণ করে যে, কেন্দ্রীয় বিজেপি নেতৃত্ব বাংলার এই লড়াইকে এবং বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বকে কতটা আস্থার সঙ্গে দেখছে। যখন ‘চাণক্য’ ও ‘সেনাপতি’ একসারিতে রাজপথে নামবেন, তখন তা যে প্রতিপক্ষের জন্য বড় চিন্তার কারণ হবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর ঘিরে কলকাতা পুলিশের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলিও নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলেছে হাজরা ও আলিপুর এলাকা। অন্যদিকে, বিজেপির রাজ্য ও জেলা স্তরের কর্মীরা এই মেগা ইভেন্ট সফল করতে রাতদিন এক করে ফেলেছেন। দলীয় কর্মীদের দাবি, কালকের এই মিছিলে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ভিড় আগের সমস্ত রেকর্ড ভেঙে দেবে। অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এবং গণতান্ত্রিক রীতিনীতি মেনে এই কর্মসূচি পালন করার কড়া নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব।

সব মিলিয়ে, কালকের বৃহস্পতিবার বাংলার নির্বাচনী ইতিহাসে এক বড় ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হতে চলেছে। অমিত শাহের তীক্ষ্ণ মস্তিস্ক আর শুভেন্দু অধিকারীর সম্মুখ সমরের জেদ—এই দুইয়ের মেলবন্ধনে ভবানীপুরের লড়াই এখন আর কেবল একটি কেন্দ্রের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই, তা হয়ে উঠেছে গোটা বাংলার পরিবর্তনের প্রতীক। তিলোত্তমার রাজপথে কাল গেরুয়া শিবির কতটা দাপট দেখাতে পারে, সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।