প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর মহাযুদ্ধে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র এক নজিরবিহীন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে বড় চমক— বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী একটি নয়, বরং দুটি হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্র থেকে লড়াইয়ের ময়দানে নেমেছেন। একদিকে তাঁর নিজের গড় নন্দীগ্রাম, আর অন্যদিকে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুর। এই জোড়া লড়াইয়ের আবহে পদ্ম শিবিরের অন্দরে এখন কান পাতলেই শোনা যাচ্ছে এক দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রশ্ন— তবে কি ২০২৬-এ শুভেন্দু অধিকারীই বিজেপির ‘মুখ্যমন্ত্রী-মুখ’? এই জল্পনা ঘিরেই এখন তোলপাড় গোটা রাজ্য।

গত ৩০ মার্চ শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামে তাঁর মনোনয়ন পেশ করেছেন। সেখানে তাঁর পাশে থেকে সংহতির বার্তা দিয়েছেন বিজেপির পোড়খাওয়া নেতা দিলীপ ঘোষ। কিন্তু আসল ‘মাস্টারস্ট্রোক’ সম্ভবত তোলা রয়েছে ভবানীপুরের জন্য। রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন, আগামী বৃহস্পতিবার ভবানীপুরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় শুভেন্দুর পাশে থাকতে পারেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।বিজেপির ইতিহাসে কোনও রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে এক প্রার্থীর মনোনয়ন পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সশরীরে উপস্থিতি অত্যন্ত বিরল। যদি সত্যিই অমিত শাহ ভবানীপুরের মেগা রোড-শো’তে অংশ নেন, তবে তা যে শুভেন্দুকে আগামীর কাণ্ডারি হিসেবে প্রজেক্ট করারই একটি স্পষ্ট সংকেত, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

শুভেন্দুকে ঘিরে এই আকাশচুম্বী জল্পনা নিয়ে যখন খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষকে প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই রহস্য বজায় রেখেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, “বিজেপি একটি সুশৃঙ্খল দল, এখানে ব্যক্তির চেয়ে সংগঠন বড়। তবে কার মনোনয়নে কোন নেতা থাকবেন বা কে ভবিষ্যতে কী দায়িত্ব পাবেন, তা দিল্লিই ঠিক করে।”

শুভেন্দুর ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম—উভয় কেন্দ্রের লড়াইকে বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে, তা অমিত শাহ বা ধর্মেন্দ্র প্রধানের মত নেতাদের উপস্থিতি থেকেই স্পষ্ট। দিলীপ ঘোষ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বিজেপি সময়মত চমক দিতে ওস্তাদ। ফলে শুভেন্দুই আগামীর মুখ কি না, সেই রহস্যের সমাধান হবে ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরেই। কেন শুভেন্দুই এখন বিজেপির প্রধান বাজি?২০২১-এর নন্দীগ্রাম জয়ের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী নিজেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ২০২৬-এর নির্বাচনে তাঁকে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—উভয় আসনে প্রার্থী করা আসলে বিজেপির এক সুপরিকল্পিত ‘চক্রব্যূহ’। একদিকে যেমন তিনি নন্দীগ্রামের ‘ভূমিপুত্র’, অন্যদিকে ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, লড়াই এখন শেয়ানে-শেয়ানে।

বিজেপি-ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহলের মতে, দিলীপ ঘোষের অভিজ্ঞ সংগঠন পরিচালনা এবং শুভেন্দুর লড়াকু জেদ—এই দুইয়ের যুগলবন্দিতেই এবার নবান্ন দখলের চূড়ান্ত স্বপ্ন দেখছে গেরুয়া শিবির। শুভেন্দু অধিকারী কি তবে শুধুই একজন ‘জায়ান্ট কিলার’, নাকি বাংলার মসনদে বসার পথে তিনি এখন অনিবার্য? দিলীপ ঘোষের হাসিমুখের আড়ালে লুকিয়ে থাকা এই প্রশ্নের উত্তর পেতেই এখন অধীর অপেক্ষায় সাধারণ মানুষ। আসল ‘স্ক্রিপ্ট’ হয়ত মোদী-শাহের ড্রয়ারেই বন্দি, কিন্তু বাংলার মানুষের মন বলছে—এবার লড়াইটা শুধু জেতার নয়, বরং পরিবর্তনের পর নতুন কান্ডারি বেছে নেওয়ার।