প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
ভোটের বাজারে বিতর্ক তৈরি করতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জুরি মেলা ভার। মুর্শিদাবাদের বড়ঞার জনসভা থেকে এবার তিনি এমন এক দাবি করেছেন যা নিয়ে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি অভিযোগ করেছেন যে, আইটিবিপি-র (ITBP) ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) কলকাতায় এসে মহিলাদের ‘পরীক্ষা’ করার কথা বলেছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, দেশের একটি দায়িত্বশীল আধাসামরিক বাহিনীর শীর্ষকর্তা কি আদেও এমন বিতর্কিত মন্তব্য করতে পারেন? নাকি হার নিশ্চিত জেনে ভোটারদের মধ্যে ভীতি ও ঘৃণা ছড়ানোর এটি এক নতুন ‘গেমপ্ল্যান’?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ‘খলনায়ক’ হিসেবে তুলে ধরে জনসমর্থন আদায়ের চেষ্টা করেন। এর আগে ২০২১-এর নির্বাচনেও তিনি বাহিনীর বিরুদ্ধে মহিলাদের ‘ঘেরাও’ করার ডাক দিয়েছিলেন। শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার অভিযোগ করেছেন যে, মমতা আসলে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ভয় পান। কারণ বাহিনীর কড়াকড়িতে বুথ দখল বা ছাপ্পা ভোট দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। বড়ঞার সভা থেকে আইটিবিপি-র ডিজির নামে এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে তিনি আসলে জওয়ানদের নৈতিক মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছেন কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে।মুখ্যমন্ত্রীর দাবি অনুযায়ী, ডিজি না কি বলেছেন মেয়েদের পরীক্ষা করে দেখা হবে। কিন্তু কবে, কোথায়, কোন পরিস্থিতিতে তিনি এই কথা বললেন— তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা তথ্য মুখ্যমন্ত্রী পেশ করেননি। বিরোধীদের দাবি অনুযায়ী, এটি পুরোপুরি একটি ‘ভিত্তিহীন’ অভিযোগ। ভোটারদের একাংশকে, বিশেষ করে মুসলিম প্রধান মুর্শিদাবাদে মহিলাদের ধর্মীয় ও সামাজিক আবেগ উস্কে দিয়ে কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে খেপিয়ে তোলাই এই বার্তার আসল উদ্দেশ্য বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের (ECI) স্পষ্ট নির্দেশিকা রয়েছে যে, ভোটের কাজে নিযুক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাজে বাধা দেওয়া বা তাদের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক মন্তব্য করা দণ্ডনীয় অপরাধ। ভারতীয় দণ্ডবিধি এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী, সরকারি কর্মীকে কর্তব্য পালনে বাধা দিলে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। অতীতে এই ধরণের ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্যের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রচারের ওপর কয়েক ঘন্টার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল কমিশন। ফলে বড়ঞার এই ‘রুখে দাঁড়ানোর’ ডাক ফের তাঁকে আইনি জটিলতায় ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, তারা মাথা নত করতে জানে না এবং লড়াই করেই অধিকার ছিনিয়ে নেবে। কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যায়, এই লড়াই কি আদর্শের না কি ক্ষমতার? যখন ভোটারদের সুরক্ষার জন্য আসা বাহিনীর বিরুদ্ধেই ভোটারদের একাংশকে উস্কানি দেওয়া হয়, তখন সেই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। ২০২৬ এর এই দফায় মমতার এই ‘পুরানো চাল’ কতটা কার্যকর হবে, না কি মানুষ এই ‘বস্তা পচা’ ডায়লগ প্রত্যাখ্যান করবে, তা ভোটবাক্সই বলবে।