প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির এপিসেন্টার আজ দক্ষিণ কলকাতার হাজরা মোড়। যেখান থেকে একসময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উত্থান হয়েছিল, আজ সেই মাটিতে দাঁড়িয়েই পরিবর্তনের ডাক দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন জমা দেওয়ার ঠিক আগে হাজরার সভামঞ্চ থেকে শাহের একটি ঘোষণা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে ওলটপালট করে দিল। শাহ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “পশ্চিমবঙ্গের এই ভোটে ১৫ দিন আমি এ রাজ্যেই থাকব। আপনাদের সঙ্গে কথা বলার অনেক সুযোগ পাব।”
বাংলার রাজনীতিতে অমিত শাহের ‘১৫ দিন’ থাকা কেবল একটি সময়সীমা নয়, বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চাল। অতীতে দেখা গিয়েছে, শাহ যখনই কোনো রাজ্যে টানা সময় দিয়েছেন, সেখানে বুথ স্তরের সংগঠন শক্তিশালী হয়েছে এবং কর্মীদের মনোবল বহুগুণ বেড়েছে। শাহের এই ঘোষণায় পরিষ্কার যে, বিজেপি এবার আর দিল্লির রিমোট কন্ট্রোলে বাংলা চালাতে চাইছে না। স্বয়ং ‘চাণক্য’ ময়দানে নেমে অপারেশন পরিচালনা করবেন। বিশেষ করে দক্ষিণ কলকাতায় শাসকদলের দুর্ভেদ্য দুর্গে দাঁড়িয়ে শাহের এই অবস্থান প্রমাণ করে যে, বিজেপি এবার এক ইঞ্চি জমিও ছাড়তে নারাজ। ভোটারদের মনে এই বিশ্বাস গেঁথে দেওয়াই তাঁর লক্ষ্য যে— ‘দিল্লি আপনাদের পাশে আছে’।
আজকের সভার মূল আকর্ষণ ছিল নন্দীগ্রামের নায়ক তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন। শাহের কথায়, “আজ আমাদের প্রার্থীদের, বিশেষ করে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নের জন্য আমি এসেছি।” শুভেন্দুর মনোনয়নে শাহের সশরীরে উপস্থিতি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি কেবল একটি মনোনয়ন কর্মসূচি নয়, বরং শুভেন্দুকে বিজেপির আগামীর প্রধান মুখ হিসেবে সিলমোহর দেওয়া। শুভেন্দুর লড়াকু ভাবমূর্তি এবং শাহের সাংগঠনিক দক্ষতা যখন এক হচ্ছে, তখন নিচুতলার বিজেপি কর্মীদের মধ্যে এক প্রবল উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। হাজরার ভিড় বুঝিয়ে দিচ্ছে, কলকাতার বুকেও এখন পদ্ম শিবিরের জমি কতটা শক্ত।
শাহের বক্তৃতার প্রতিটি ছত্রে ছিল তৃণমূলের প্রতি কড়া চ্যালেঞ্জ। তিনি বারবার উল্লেখ করেছেন যে, তিনি সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাবেন। শাহের ১৫ দিন থাকার অর্থ হলো তিনি কেবল বড় সভা করবেন না, বরং ছোট ছোট বৈঠক ও নিবিড় জনসংযোগ করবেন। এটি তৃণমূলের ‘দিদির সুরক্ষা কবচ’ বা ‘দুয়ারে সরকার’-এর পাল্টা কৌশলী চাল। শাহের উপস্থিতির মানেই হলো কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর বিশেষ নজরদারি এবং নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা। বিজেপি কর্মীদের উদ্দেশ্যে শাহের এই বার্তা— “আমি আছি, লড়াই করুন”— গ্রাম বাংলার কোণায় কোণায় এক প্রবল আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
শাহের আজকের বক্তৃতা আদতে বাংলায় নির্বাচনী যুদ্ধের চূড়ান্ত ঘোষণা। শুভেন্দু অধিকারীর হাত শক্ত করে শাহ বুঝিয়ে দিলেন, এবারের লড়াই হবে সেয়ানে-সেয়ানে। ১৫ দিন বাংলাতে থেকে শাহ কীভাবে তৃণমূলের ঘুঁটি সাজানো বানচাল করেন, এখন সেটাই দেখার। রাজ্যবাসীর কাছেও শাহের এই উপস্থিতি এক বড় বার্তা— পরিবর্তন কেবল শ্লোগান নয়, এবার তা বাস্তবের পথে। বিজেপি কর্মীদের জন্য এখন একটাই মন্ত্র— ‘শাহ আসছেন, জয় নিশ্চিত’। হাজরার এই জনপ্লাবন কি নবান্নের পথে বিজেপির রাস্তা পরিষ্কার করবে? উত্তর দেবে সময়।