প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশলে এবার সরাসরি আঘাত শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভবানীপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাজ্যের শাসকদলকে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি জনতাকে পরিবর্তনের সংকল্পে শামিল হওয়ার ডাক দিলেন তিনি। শাহের সাফ কথা, সারা রাজ্যে পরিবর্তনের হাওয়া বইছেই, কিন্তু ভবানীপুরকেও সেই পরিবর্তনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে। বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পর্বের প্রাক্কালে আয়োজিত এক জনসভা থেকে অমিত শাহ অত্যন্ত প্রত্যয়ী সুরে জনতাকে প্রশ্ন করেন, “পশ্চিমবঙ্গে তো পরিবর্তন হবেই। কিন্তু ভবানীপুরে পরিবর্তন করতে হবে কি হবে না?” শাহের এই প্রশ্নটি যে সরাসরি তৃণমূলের খাসতালুকে আঘাত হানার লক্ষ্যেই ছিল, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে তিনি হাতজোড় করে আবেগঘন আবেদন জানিয়ে বলেন, “আমি হাতজোড় করে আমাদের বলছি, পুরো রাজ্যের মুক্তির জন্য আমাদের প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে বিপুল জনমতে জয়ী করুন।” রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর মত হেভিওয়েট প্রার্থীর সমর্থনে শাহের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভবানীপুর কেন্দ্রটি রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি বিশেষ স্থান দখল করে থাকে। সেখান থেকেই পরিবর্তনের ডাক দিয়ে শাহ বোঝাতে চেয়েছেন যে, বিজেপি এবার কোনো জায়গাতেই জমি ছাড়তে নারাজ। শাহের বক্তব্যে বারবার উঠে এসেছে ‘মুক্তির’ প্রসঙ্গ। তিনি মনে করেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে রাজ্যের সাধারণ মানুষকে মুক্তি দিতে গেলে প্রতিটি বুথে এবং প্রতিটি কেন্দ্রে বিজেপির জয় সুনিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পেশের ঠিক আগেই শাহের এই উদ্দীপনামূলক বক্তব্য বিজেপি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে প্রাণসঞ্চার করেছে।
শাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই লড়াই কেবল একটি আসনের নয়, বরং গোটা রাজ্যের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের লড়াই। আর সেই লড়াইয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে জয়ী করা মানেই অরাজকতার বিরুদ্ধে এবং সুশাসনের পক্ষে রায় দেওয়া। ভবানীপুরের ভোটারদের প্রতি তাঁর এই সরাসরি আবেদন নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। শাহের এই হুঙ্কারের পর এখন লক্ষ্য একটাই—বিপুল জনমতের ভিত্তিতে শুভেন্দু অধিকারীর জয় নিশ্চিত করা এবং রাজ্যের পরিবর্তনের পথকে আরও প্রশস্ত করা।
সারা রাজ্যের নজর এখন ভবানীপুরের দিকে। অমিত শাহের এই আবেদন সাধারণ মানুষের মনে কতটা প্রভাব ফেলে এবং ইভিএমে তার প্রতিফলন কতটা তীব্র হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে এদিনের সভা থেকে শাহ যে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, তাতে বিরোধী শিবিরে যে অস্বস্তি বাড়বে তা নিশ্চিত। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে জনমতের এই লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসে, তার ওপরই নির্ভর করছে বাংলার ভবিষ্যৎ।