প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে কথায় কথায় রাজপথ দখল, সরকারি কাজে বাধা আর উত্তেজনার ‘পুরানো খেলা’ কি এবার শেষ হতে চলেছে? পশ্চিমবঙ্গজুড়ে নির্বাচনের আগে লাগাতার অশান্তি ও বিশৃঙ্খলার সংস্কৃতির ওপর এবার বড়সড় হাতুড়ি চালাল ভারতের নির্বাচন কমিশন। স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, রাজ্যে আর কোনো ‘বেআইনি জমায়েত’ বরদাস্ত করা হবে না। অনুমতি ছাড়া এক পা মিছিল বা কোনো বড় সভা করলেই এবার সোজা শ্রীঘর! গতকাল রাত থেকেই রাজ্যজুড়ে এই কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে কমিশন। বিজেপি বারবার অভিযোগ করে আসছিল যে, একশ্রেণির রাজনৈতিক মদতপুষ্ট সংগঠন ও প্রভাবশালীরা নির্বাচনের পরিবেশ বিষিয়ে তোলার চেষ্টা করছে। বিশেষ করে সিইও (CEO) দফতরের সামনে যেভাবে বিক্ষোভের নামে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছিল, তাকে ‘গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ’ নয় বরং ‘পরিকল্পিত উস্কানি’ হিসেবেই দেখছে ওয়াকিবহাল মহল।
কমিশনের সাফ বার্তা—রাজ্যের কোথাও কোনো মিছিল, সভা বা রাজনৈতিক জমায়েত করতে গেলে আগেভাগেই লিখিত অনুমতি নিতে হবে। যারা ভাবছিলেন ‘গায়ের জোরে’ রাস্তা আটকে দাদাগিরি করবেন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ। নির্দেশ অমান্য করে রাস্তায় নামার ধৃষ্টতা দেখালেই পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তৎক্ষণাৎ গ্রেফতার করার। অর্থাৎ, আইনের শাসন যে সবার উপরে, তা বুঝিয়ে দিল কমিশন। এতদিন সিইও (CEO) দফতরে গিয়ে যখন-তখন ভিড় জমানো বা কাজের পরিবেশ নষ্ট করার যে ধারা তৈরি হয়েছিল, তাতেও দাড়ি টানা হয়েছে। এখন থেকে কমিশনের কার্যালয়ে প্রবেশের ক্ষেত্রেও আগাম অনুমতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অফিস চত্বরে ভিড় জমিয়ে আধিকারিকদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টির পথও এবার বন্ধ।
মঙ্গল ও বুধবার সিইও দফতরের বাইরে যে চরম অশান্তি ও গোলমালের ছবি দেখা গিয়েছিল, তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নিতে এক মুহূর্ত দেরি করেনি কমিশন। তৃণমূলপন্থী সংগঠন হিসেবে পরিচিত ‘বিএলও (BLO) অধিকার রক্ষা কমিটি’র দুটি বড় বিক্ষোভমঞ্চ সটান ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কমিশনের এই রুদ্রমূর্তি দেখে অনেকেই এখন পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছেন। শুধু মঞ্চ ভাঙাই নয়, কমিশন সূত্রে খবর মিলেছে যে, ফের যদি কেউ সিইও দফতরের সামনে মঞ্চ বেঁধে কাজ আটকানোর বা বিক্ষোভ দেখানোর ধৃষ্টতা দেখায়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে সরাসরি সাসপেনশনের চিঠি ধরানো হবে। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যারা রাজনীতির ময়দানে ফায়দা তুলতে চাইছিলেন, তাদের জন্য এটি এক চরম সতর্কবার্তা। রাজ্যজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে। বেআইনিভাবে জমায়েত বা অশান্তি পাকানোর সামান্যতম চেষ্টা দেখলেই কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওপরমহল থেকে।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে প্রধান অন্তরায় ছিল এই উস্কানিমূলক জমায়েত ও রাজনৈতিক গুন্ডামি। শাসকদলের ছত্রছায়ায় থেকে যারা এতদিন ধরাকে সরা জ্ঞান করছিল, কমিশনের এই ‘চাবুক’ তাদের মেরুদণ্ডে কম্পন ধরিয়ে দেবে। সাধারণ ভোটারদের মনে আত্মবিশ্বাস ফেরাতে এবং ভোট বৈতরণী পার হতে চাওয়া দুষ্কৃতীদের দমনে এই ধরনের কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের কোনো বিকল্প ছিল না। এখন দেখার, কমিশনের এই কড়া দাওয়াইয়ের পর রাজ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহ কতটা ঠান্ডা হয়।