প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের রণদামামা বাজার পরূই প্রশাসনিক স্তরে এক বিশাল রদবদল ঘটিয়ে দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। আপাত দৃষ্টিতে এই পদক্ষেপ ভোটারদের সুবিধার্থে মনে হলেও, এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব নিয়ে ইতিমধ্যেই বাংলার রাজনৈতিক অলিন্দে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। কমিশনের এই নতুন ‘মাস্টারস্ট্রোক’ কি রাজ্যের চেনা নির্বাচনী সমীকরণগুলোকে ওলটপালট করে দেবে? প্রশ্নটা এখন প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সদর দপ্তরে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটদানের পরিবেশ তৈরি করতে বুথ বিন্যাসে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। যে সমস্ত ভোটকেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ১২০০ অতিক্রম করেছে, সেখানে তৈরি করা হচ্ছে অতিরিক্ত বা ‘অক্সিলারি’ ভোটকেন্দ্র। এই নিয়মের ফলে রাজ্যে এক ধাক্কায় ৪,৬৬০টি অতিরিক্ত ভোটকেন্দ্র তৈরি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান ও ভোটারদের যাতায়াতের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ৩২১টি ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের ছাড়পত্র দিয়েছে কমিশন। এই সংযোজন ও বিয়োজনের পর রাজ্যে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৮৫,৩৭৯টি।

কমিশন তাদের এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ‘প্রশাসনিক’ এবং ‘ভোটার-বান্ধব’ হিসেবে তুলে ধরেছে। নির্বাচন বিধিতে বলা আছে, ভোটারদের দীর্ঘ লাইন কমানো এবং ভোটদান প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও দ্রুত করার জন্য বুথ বিভাজন করা যেতে পারে। বিশেষ করে গরমের সময় বা প্রতিকূল পরিস্থিতিতে বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই এই বিকেন্দ্রীকরণ।

তবে রাজনীতির কারবারিরা এর পেছনে অন্য এক সমীকরণ দেখছেন। বিশেষ করে বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহল মনে করছে, বুথ সংখ্যা বাড়লে এবং ভোটার সংখ্যা নির্দিষ্ট গণ্ডিতে (১২০০-র মধ্যে) সীমাবদ্ধ থাকলে নজরদারি চালানো অনেক সহজ হবে। ছোট বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের পক্ষে প্রতিটি ভোটারের পরিচয় যাচাই করা সহজ হয়। বড় বুথে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে যে ‘বুথ ম্যানেজমেন্ট’ বা ‘ছাপ্পা’র অভিযোগ ওঠে, ১২০০-র এই কঠোর সীমারেখা সেই পথ অনেকটা কঠিন করে দিতে পারে। যে ৩২১টি বুথ স্থানান্তর করা হয়েছে, সেগুলি কোন কোন স্পর্শকাতর এলাকায় অবস্থিত, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে।

কমিশনের এই ৮৫,৩৭৯টি বুথের জাল কি এবার বাংলার নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে? নাকি এই বাড়তি বুথ সামলাতে হিমশিম খেতে হবে প্রশাসনকে? ১২০০-র এই গাণিতিক হিসেবে কার লাভ আর কার ক্ষতি—সেটা সময়ই বলবে। তবে আপাতত কমিশনের এই ‘সাইলেন্ট মুভ’ বাংলার প্রতিটি বুথে এক নতুন উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে দিয়েছে।