প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে কি তবে ভোটার তালিকা নিয়ে এক গভীর চক্রান্তের জাল বিছানো হচ্ছে? মালদহের মোথাবাড়ির ভয়াবহ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হলো উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায়। ভোটার তালিকা থেকে হাজার হাজার মানুষের নাম ‘রহস্যজনকভাবে’ উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগে এবার রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। জনরোষের আগুনের মুখে পড়লেন এক অসহায় মহিলা সরকারি কর্মী (BLO)। এদিন যে ঘটনার সাক্ষী থাকল গাইঘাটা, তা ফের একবার রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে খাদের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দিল।

গাইঘাটা বিধানসভার ৩৮ নম্বর বুথের বিএলও (BLO) নমিতা দাস এদিন তাঁর নির্ধারিত কাজ সেরে ঘরে ফিরছিলেন। কিন্তু মাঝপথেই যেন আকাশ ভেঙে পড়ল তাঁর মাথায়। হঠাৎই একদল উত্তেজিত জনতা তাঁকে ঘিরে ধরেন। অভিযোগ, কোনো আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। ক্ষোভে ফেটে পড়া স্থানীয়দের প্রশ্ন ছিল একটাই— “আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার দুঃসাহস কে দিল?” উত্তেজিত ভিড়ের মাঝে আটকে পড়ে প্রাণভয়ে কাঁপতে থাকেন ওই মহিলা কর্মী।

পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে আতঙ্কিত নমিতা দেবী তড়িঘড়ি ফোন করেন এআরও-কে (AERO)। উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের বিষয়টি জানানোর পর এক মুহূর্ত দেরি না করে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। শেষপর্যন্ত কয়েক ঘণ্টার হাড়হিম করা উৎকণ্ঠার পর পুলিশি পাহাড়ায় তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে আসা সম্ভব হয়। তবে উদ্ধার হলেও কাটেনি আতঙ্ক; ঘটনার পর থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন ওই সরকারি কর্মী। তিনি কি তবে শুধুই বলির পাঁঠা হলেন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন বা SIR প্রক্রিয়ার নামে একতরফাভাবে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে। বিশেষ করে গাইঘাটা ও সংলগ্ন বাগদা এলাকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া নিয়ে ক্ষোভ চরমে পৌঁছেছে। শুধু গাইঘাটা বিধানসভাতেই প্রায় ২,২৪০ জন এবং বাগদাতে ১,৯৯৩ জনের নাম বাদ দেওয়ার খবর সামনে আসায় প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এখন বড়সড় কাঠগড়ায়।

ভোটের আগে এই ধরণের ভোটার তালিকা ‘সাফ’ করার প্রক্রিয়া কি নিছকই যান্ত্রিক ত্রুটি, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো অদৃশ্য শক্তির মরণকামড়? সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ কি তবে আসন্ন কোনো বড় বিপদের পূর্বাভাস? এই ঘটনায় জেলাজুড়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রশাসন ও পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখলেও, সাধারণ ভোটারদের মনের সংশয় কিন্তু কাটছে না।