প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার হাইভোল্টেজ নির্বাচনের আগে এবার সরাসরি লালবাজারের অন্দরে আছড়ে পড়ল এক প্রবল কম্পন। কলকাতা পুলিশের দাপুটে আইপিএস তথা ডিসিপি (স্পেশাল ব্রাঞ্চ) শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে ঘিরে এবার চরম সংঘাতের পথে ভারতীয় জনতা পার্টি। নবান্নের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং মুখ্যমন্ত্রীর ‘প্রিয়’ অফিসার বলে পরিচিত এই পুলিশকর্তাকে সরাতে এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের (CEO) দ্বারস্থ হলো গেরুয়া শিবির। ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার ঠিক পরেই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে নিয়ে বিজেপির এই বিস্ফোরক পদক্ষেপ কি বড় কোনো প্রশাসনিক রদবদলের ইঙ্গিত? এই প্রশ্নই এখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে ঘুরপাক খাচ্ছে।

রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে এবার কোনো আপস করতে রাজি নয় বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কাছে একটি অত্যন্ত কড়া ও তথ্যসমৃদ্ধ চিঠি পাঠিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। সেখানে দাবি করা হয়েছে— শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে অবিলম্বে তাঁর বর্তমান পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। বিজেপির অভিযোগ, এই পুলিশকর্তা পুরোপুরি “পক্ষপাত দুষ্ট” (Partisan) এবং তিনি নিরপেক্ষভাবে কাজ করার বদলে সরাসরি শাসকদলের স্বার্থে কাজ করছেন। কেন শান্তনুর অপসারণে মরিয়া গেরুয়া শিবির?

বিজেপির দেওয়া ওই চিঠিতে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে “আপসকারী” (Compromised) অফিসার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি পুলিশ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রভাব খাটিয়ে পর্দার আড়ালে থেকে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে শাসকদলের অনুকূলে করার চেষ্টা করছেন। শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবারই দাবি করেছেন যে, পুলিশের অন্দরে কার কোথায় বদলি হবে বা ভোটের ডিউটি কে কোথায় পাবেন, তাতে এই অফিসারের বড় ভূমিকা থাকে। বিজেপির দাবি, এই অফিসারকে দায়িত্বে রেখে রাজ্যে স্বচ্ছ নির্বাচন হওয়া কার্যত অসম্ভব।

ভোটের মুখে যখন সরাসরি এই প্রভাবশালী পুলিশকর্তার অপসারণের দাবি উঠেছে, তখন নবান্ন তথা শাসকদলের অন্দরেও অস্বস্তি চরমে। রাজনৈতিক মহলের মতে, একজন উচ্চপদস্থ আইপিএস অফিসারের বিরুদ্ধে কমিশনের কাছে সরাসরি অভিযোগ জমা পড়া অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।বিরোধী শিবিরের দাবি, শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ডানা ছাঁটতে পারলে শাসকদলের নির্বাচনী ছক অনেকটাই ধাক্কা খাবে।

বিজেপির এই অপসারণের দাবির মাঝেই শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে নিয়ে আরও এক চাঞ্চল্যকর খবর সামনে আসছে। বিভিন্ন সূত্র মারফত দাবি করা হচ্ছে, একটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা তাঁকে দিল্লিতে তলব করেছে। আগামী ৬ এপ্রিল তাঁকে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে খবর। একদিকে বিজেপির রাজনৈতিক চাপ আর অন্যদিকে কেন্দ্রীয় এজেন্সির নজর— সব মিলিয়ে শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ভবিষ্যৎ এখন কার্যত সুতোর ওপর ঝুলছে।এখন দেখার, বিজেপির এই চিঠির ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কী কড়া পদক্ষেপ নেয়। কমিশন কি তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেবে? নাকি ভোটের আগে বাংলার পুলিশি কাঠামোয় বড় কোনো ধামাকা হতে চলেছে? লালবাজারের এই দাপুটে অফিসারের ভাগ্য এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।