প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর মহাযুদ্ধের শুরুতেই ভবানীপুর কেন্দ্রকে ঘিরে তপ্ত কলকাতার রাজনীতি। গত ৩ রা এপ্রিল বিজেপি প্রার্থী তথা রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়ন পেশকে কেন্দ্র করে হাজরা মোড় এলাকায় যে অভাবনীয় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল, তার রেশ এখন আইনি লড়াইয়ের মোড় নিয়েছে। পুলিশের এক নজিরবিহীন পদক্ষেপে এখন রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে প্রশাসনের অন্দরে। লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ থেকে পাঠানো এক বিশেষ নোটিশেই একযোগে ঘুম উড়েছে ৩৮ জনের!
গত বৃহস্পতিবার যখন শুভেন্দু অধিকারী বিশাল মিছিল করে আলিপুরের দিকে মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছিলেন, তখনই হাজরা মোড় এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। হাজার হাজার মানুষের ভিড়, স্লোগান এবং পাল্টা স্লোগানে পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে, জনতাকে সামলাতে পুলিশকে রীতিমত হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই বিশৃঙ্খলার পরেই আলিপুর ও কালীঘাট থানায় পুলিশের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে দুটি পৃথক এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছিল। অভিযোগ ছিল— বেআইনি জমায়েত, সরকারি কাজে বাধা দান এবং এলাকায় শান্তি বিঘ্নিত করা। মামলার তদন্তভার হাতে নিয়েই লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ (DD) আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিতে শুরু করেছে। হাজরা মোড় এবং তার পার্শ্ববর্তী এলাকার কয়েক ডজন সিসিটিভি ফুটেজ এবং সেদিনের সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলি ফ্রেম-বাই-ফ্রেম খতিয়ে দেখা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, সেই ভিডিওগুলি থেকেই মুখ চিনে চিহ্নিত করা হয়েছে ৩৮ জনকে।তবে এই ৩৮ জন আসলে কারা, তা নিয়ে লালবাজার এখনও পর্যন্ত কঠোর গোপনীয়তা বজায় রেখেছে। কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নাম না নিলেও পুলিশের দাবি, এই ব্যক্তিরা সেদিন বিশৃঙ্খলা তৈরিতে অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন। যেহেতু পুলিশের খাতায় এঁদের নাম উঠে এসেছে, তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁদের লালবাজারে তলব করা হয়েছে। একটিমাত্র নোটিশে এতজন ব্যক্তিকে একসাথে তলব করার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বেশ বিরল বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এই ঘটনার রেশ কেবল রাজপথেই সীমাবদ্ধ নেই। মনোনয়নের দিনে কেন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটা অবনতি হলো, তা নিয়ে নির্বাচন কমিশন অত্যন্ত কড়া অবস্থান নিয়েছে। কর্তব্যে গাফিলতি এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই দুই উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিককে (DC) শো-কজ করা হয়েছে। কমিশনের এই প্রবল চাপের কারণেই লালবাজার এখন দ্রুততার সঙ্গে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমানে এই ৩৮ জনকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম রহস্য। গোয়েন্দা সূত্রে জানানো হয়েছে, এই ব্যক্তিদের বয়ান রেকর্ড করার পরেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে তাঁদের মুখোমুখি বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে। শহর কলকাতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে কেন এমন বিশৃঙ্খলা হলো এবং এর নেপথ্যে কোনো সুপরিকল্পিত ছক ছিল কি না, তা খুঁজে বের করাই এখন গোয়েন্দাদের প্রধান লক্ষ্য। এখন দেখার, লালবাজারের এই হাইভোল্টেজ তদন্ত শেষ পর্যন্ত কোন পথে এগোয়। এই ৩৮ জনের পরিচয় এবং তাঁদের বয়ান আগামী দিনে ভবানীপুরের নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দেয় কি না, তার দিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।