প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের আবহে খোদ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় নজিরবিহীন কড়া পদক্ষেপ নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন (ECI)। ভবানীপুরে শাহের মেগা রোড শো-তে চরম বিশৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তার গাফিলতির অভিযোগে কলকাতা পুলিশের ডিসি-সহ ৪ জন পদস্থ অফিসারকে সরাসরি সাসপেন্ড করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একইসাথে তাঁদের বিরুদ্ধে শুরু হচ্ছে কঠোর বিভাগীয় তদন্ত (Departmental Proceedings)। কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড হওয়া অফিসাররা হলেন:১. সিদ্ধার্থ দত্ত: ডিসি (২), সাউথ ডিভিশন, কলকাতা পুলিশ।২. প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী: ওসি (OC), আলিপুর থানা।৩. চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়: অতিরিক্ত ওসি (Additional OC), আলিপুর থানা।৪. সৌরভ চট্টোপাধ্যায়: পুলিশ সার্জেন্ট, আলিপুর।
গত বৃহস্পতিবার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে হাজরা মোড় থেকে এক বিশাল রোড শো শুরু করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কিন্তু মিছিলটি যখন আলিপুর ও সংলগ্ন এলাকা দিয়ে এগোচ্ছিল, তখনই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো ‘জেড প্লাস’ (Z+) ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পাওয়া ভিভিআইপি-র সুরক্ষা বলয়ের একেবারে কাছে পৌঁছে যায় একদল বিক্ষোভকারী। মিছিলে বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক বাদানুবাদ থেকে তীব্র ধস্তাধস্তি শুরু হলেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন তা নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়। অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই বিক্ষোভকারীরা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, নিরাপত্তার খাতিরে এবং বিশৃঙ্খলার কারণে অমিত শাহকে মাঝপথেই গাড়ি থেকে নেমে অন্য গাড়িতে করে এলাকা ছাড়তে হয়। রোড শো সম্পূর্ণ না হওয়াকে বিজেপির পক্ষ থেকে পুলিশের ‘পরিকল্পিত নিষ্ক্রিয়তা’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার রিপোর্ট পাওয়ার পরই নড়েচড়ে বসে নির্বাচন কমিশন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নিরাপত্তায় কেন এই বিশাল ফাঁক থেকে গেল এবং কেন পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি সামাল দিতে পারল না, তা নিয়ে রিপোর্ট তলব করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের চরম গাফিলতি ও পরিকল্পনার অভাব প্রমাণিত হওয়ায় এই ৪ অফিসারকে তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের মুখে ডিউটিতে অবহেলার জন্য ডিসি পদমর্যাদার অফিসারকে সাসপেন্ড করার ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি স্পষ্ট করে দিল যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো প্রকার পক্ষপাতিত্ব বা গাফিলতি কমিশন বরদাস্ত করবে না। এই ঘটনার পর ভবানীপুরসহ গোটা দক্ষিণ কলকাতায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।