প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতেই ছুটির মেজাজ উধাও মুর্শিদাবাদে। আজ রবিবার সকালে বহরমপুরের দয়াময়ী কালীবাড়ি এলাকায় যা ঘটল, তা দেখে কার্যত স্তম্ভিত হয়ে গেলেন সাধারণ মানুষ। ভোট প্রচারের শুরুতেই আজ নজিরবিহীন হেনস্থা ও চরম বিশৃঙ্খলার মুখে পড়তে হলো বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে। দীর্ঘ সাড়ে তিন দশক পর বিধানসভা ভোটের ময়দানে ফেরা এই হেভিওয়েট নেতার রবিবাসরীয় প্রচারকে ঘিরে আজকের উত্তেজনা রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে।
এদিন রবিবার সকালে অধীর চৌধুরী দয়াময়ী কালীবাড়ি মন্দিরে পুজো দিয়ে যখনই ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বিটি কলেজ এলাকায় প্রচারে ঢোকেন, তখনই পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। অভিযোগ, স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে একদল তৃণমূল কর্মী সেখানে পতাকা ও ফেস্টুন নিয়ে আগে থেকেই জমায়েত করেছিলেন। অধীরবাবুর মিছিল এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে ধেয়ে আসে তীব্র ‘গো ব্যাক’ স্লোগান। মুহূর্তের মধ্যে দু-পক্ষের মধ্যে ব্যাপক ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের হস্তক্ষেপে অধীর চৌধুরীকে অন্য রাস্তা দিয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।
উল্লেখ্য, এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির ধারা আজকের নতুন নয়। ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ গতকাল শনিবারও বহরমপুরের ভাকুড়ি ও আব্দুস সামাদ রোড এলাকায় প্রায় একই রকম দৃশ্যের অবতারণা হয়েছিল। সেখানেও অধীর চৌধুরীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয় এবং অভিযোগ ওঠে যে পরিস্থিতি সামলাতে মেজাজ হারিয়ে ফেলেন খোদ প্রার্থী। পরপর দু’দিন, বিশেষ করে ছুটির দিনেও নিজের খাসতালুকে এভাবে বাধার সম্মুখীন হওয়াকে ‘পরিকল্পিত আক্রমণ’ বলে দাবি করেছেন অধীরবাবু।
বিজেপি শিবির এই ঘটনাকে ‘তৃণমূল ও কংগ্রেসের গটআপ গেম’ বলে কটাক্ষ করলেও, স্থানীয় মানুষের মধ্যে এই সংঘাত নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শাসকদলের দাবি— এলাকার মানুষ অধীর চৌধুরীর বিগত দিনের কাজের হিসেব চাইছে। অন্যদিকে, কংগ্রেসের পাল্টা দাবি— হার নিশ্চিত জেনেই তৃণমূল এভাবে গণতান্ত্রিক প্রচারে বাধা দিচ্ছে। রবিবারের এই সংঘাতের রেশ শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।