প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে আছড়ে পড়ল এক বিশাল রাজনৈতিক সুনামি। যাকে বলে ‘বিনা মেঘে বজ্রপাত’, ঠিক তেমনই এক কাণ্ড ঘটল সোমবার। দীর্ঘদিনের জল্পনা আর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে খাস ব্যারাকপুরের মাটিতে ঘাসফুল শিবিরে বড়সড় ধস নামাল ভারতীয় জনতা পার্টি। মেগা জনসভায় বিজেপির দাপুটে নেতা অর্জুন সিংয়ের হাত ধরে পদ্ম পতাকা তুলে নিলেন নোয়াপাড়ার অত্যন্ত প্রভাবশালী তথা প্রাক্তন বিধায়ক সুনীল সিং।

সোমবার বিকেল থেকেই এই জনসভাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। হাজার হাজার মানুষের উপস্থিতিতে যখন মঞ্চ কাঁপিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি প্রার্থী অর্জুন সিং, ঠিক তখনই সেখানে উদয় হন সুনীল সিং। একসময় তৃণমূলের অত্যন্ত বিশ্বস্ত এবং নোয়াপাড়া বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন এই বিধায়ককে গেরুয়া মঞ্চে দেখে উপস্থিত জনতা এবং রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে যায়। অর্জুন সিং হাসিমুখে তাঁর হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিতেই চারদিকে ‘জয় শ্রী রাম’ ধ্বনিতে কেঁপে ওঠে এলাকা।

এই দলবদল কেন তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুনীল সিং কেবল একজন প্রাক্তন বিধায়ক নন, তিনি ছিলেন তৃণমূলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা। দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় থেকেও ভোটের ঠিক আগে তাঁর এই প্রস্থান শাসক দলের অন্দরের ফাটলকেই প্রকট করে দিল।

উল্লেখ্য, ২০২৬-এর নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল টিকিট দিয়েছে ছাত্রনেতা তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্যকে। কিন্তু স্থানীয় সংগঠন যার হাতের তালুর মত চেনা, সেই সুনীল সিংয়ের দলত্যাগে তৃণাঙ্কুরের লড়াই যে কয়েক গুণ কঠিন হয়ে গেল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

বিজেপিতে যোগ দিয়েই নিজের অফিস থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে দিয়েছেন সুনীল সিং। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি একরাশ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “তৃণমূলের আদর্শ এখন বদলে গিয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে হলে এবং রাজ্যে প্রকৃত পরিবর্তন আনতে হলে বিজেপির বিকল্প নেই”। শুধু সুনীল সিং একাই নন, এদিন তাঁর পথ অনুসরণ করে হালিশহর পৌরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান রাজু সাহানিও বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন, যা ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নামাতে পারে।

নির্বাচনের প্রাক্কালে একে একে তৃণমূলের হেভিওয়েটদের নিজেদের শিবিরে টেনে নিয়ে অর্জুন সিং বুঝিয়ে দিলেন, ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চল এখনও তাঁর হাতের মুঠোয়। এই দলবদলের ফলে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগেই ব্যারাকপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ ওলটপালট হয়ে গেল। এখন দেখার, এই ধস সামাল দিতে তৃণমূল পাল্টা কী কৌশল নেয়।