প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-জল্পনা ছিল আকাশছোঁয়া, কিন্তু বাধ সাধল আকাশেরই মেঘ। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে হলদিয়ার রাজনৈতিক আবহাওয়াকে ছাপিয়ে গিয়েছিল প্রকৃতির প্রতিকূলতা। তবে সমস্ত বাধা তুচ্ছ করে অবশেষে হলদিয়ায় পৌঁছোল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চপার। দুর্যোগে সূচি কিছুটা ওলটপালট হলেও, প্রধানমন্ত্রীর পৌঁছোনোর খবরে এখন উচ্ছ্বাসে ফুটছে সভাস্থল। প্রকৃতির ভ্রুকুটি যে গেরুয়া শিবিরের উন্মাদনায় বিন্দুমাত্র ভাঁটা ফেলতে পারেনি, হলদিয়ার জনসমুদ্রই তার প্রমাণ।
এদিন সকাল থেকেই হলদিয়ার আকাশ ছিল মেঘলা। বুধবারের পর বৃহস্পতিবার সকালেও হলদিয়ার বিস্তীর্ণ অংশে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়। এর ফলে সভাস্থলের বেশ কিছু জায়গায় জল জমে যায়, যা উদ্যোক্তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে প্রধানমন্ত্রীর বিমান নির্ধারিত সময়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের কলাইকুণ্ডা বায়ুসেনা ঘাঁটিতে অবতরণ করতে পারেনি। ফলে সকাল সাড়ে ৯ টার নির্ধারিত সভা শুরু হতে বেশ খানিকটা বিলম্ব হয়।
বিজেপি সূত্রের খবর অনুযায়ী, দফায় দফায় আকাশ পর্যবেক্ষণের পর বেলা ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ প্রধানমন্ত্রীর বিমান কলাইকুণ্ডায় সফলভাবে অবতরণ করে। সেখান থেকে বিশেষ কপ্টারে চড়ে হলদিয়ার সভাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। মোদীর আসার খবর চাউর হতেই জলমগ্ন মাঠের কষ্ট ভুলে কয়েক হাজার মানুষ স্লোগান দিয়ে আকাশ-বাতাস মুখরিত করে তোলেন।
আজকের দিনটি প্রধানমন্ত্রীর জন্য অত্যন্ত ব্যস্ততাপূর্ণ। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে হলদিয়ার এই মেগা সভার পর তাঁর আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ জনসভা রয়েছে। বিজেপি-র শেয়ার করা সূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর আজকের বাকি কর্মসূচিগুলো হলো, পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ায় দিনের প্রথম সভাটি করছেন তিনি। হলদিয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর গন্তব্য পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল। সেখানে পোলো গ্রাউন্ডের আউটডোর স্টেডিয়ামে বেলা ১২টা নাগাদ তাঁর দ্বিতীয় জনসভাটি হওয়ার কথা রয়েছে। দিনের শেষ জনসভাটি হবে বীরভূমের সিউড়ি শহরের চাঁদমারি মাঠে। দুপুর ২টো নাগাদ এখানে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
হলদিয়ার সভার সময় বৃষ্টির কারণে পিছিয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তার প্রভাব পড়তে চলেছে আসানসোল এবং সিউড়ির সভার ওপর। নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় দুই ঘণ্টা দেরিতে হলদিয়ায় কর্মসূচি শুরু হওয়ায় বাকি সভা দুটিও কিছুটা পিছিয়ে যেতে পারে বলে গেরুয়া শিবির সূত্রে জানা যাচ্ছে। তবে দলীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিয়েছে, সময়ের হেরফের হলেও প্রতিটি সভাই পূর্বনির্ধারিত সূচি মেনেই অনুষ্ঠিত হবে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের মুখে হলদিয়ার এই সভা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তাই প্রকৃতির বাধা কাটিয়ে মোদীর এই পৌঁছানোকে রাজনৈতিক ভাবেও বড় জয় হিসেবে দেখছে বঙ্গ বিজেপি। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও মানুষের ভিড় প্রমাণ করে দিল মেদিনীপুর থেকে বীরভূম—রাজনৈতিক হাওয়া কোন দিকে বইছে। এখন দেখার, হলদিয়ার এই ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকে পরবর্তী সভাগুলোতে বিরোধী শিবিরের উদ্দেশে কী ‘গর্জন’ শোনা যায় প্রধানমন্ত্রীর গলায়।