প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-“৫ বছর আগে নন্দীগ্রাম যা দেখিয়েছিল, এবার ভবানীপুরেও তাই হবে। এটি পরিবর্তনের ঝড়, তৃণমূল সরকারের যাওয়ার ঝড়!” — আজ পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার মেগা জনসভা থেকে এভাবেই সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর আজকের এই সভা ছিল রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। হলদিয়ার জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী আজ স্পষ্ট করে দিলেন, বাংলার মসনদ থেকে ‘নির্মম’ সরকারের বিদায় এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

এদিনের সভার শুরুতেই মেদিনীপুরের আপামর জনতাকে সশ্রদ্ধ প্রণাম জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী এক বিস্ফোরক মেজাজে ধরা দেন। তাঁর বক্তব্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ভবানীপুর কেন্দ্র। মোদী মনে করিয়ে দেন, ২০২১-এর নির্বাচনে মেদিনীপুরের ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারীর হাতে নন্দীগ্রামে পরাজিত হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬-এর এই মহাযুদ্ধে বিজেপি সেই একই রণকৌশল নিয়েছে। এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুক ভবানীপুর কেন্দ্রে মমতার বিরুদ্ধে প্রার্থী করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীকে। মোদীর আজকের ‘ভবানীপুর হুঙ্কার’ সেই হারের স্মৃতিকেই উসকে দিল। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, “৫ বছর আগে নন্দীগ্রামে যা হয়েছিল, এবার ভবানীপুরেও ঠিক সেটাই হবে। পুরো পশ্চিমবঙ্গ আজ সেই পথেই হাঁটছে।”

প্রধানমন্ত্রী এদিন কেবল রাজনৈতিক আক্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, তিনি তুলে ধরেছেন বাংলার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ৮টি ওয়ার্ডের মধ্যে গত কয়েকটি নির্বাচনে বিজেপি ৫টি ওয়ার্ডে লিড ধরে রেখেছে। মোদীর আত্মবিশ্বাসের মূলে রয়েছে এই গাণিতিক পরিসংখ্যান। মোদী দাবি করেন, এই নির্বাচন কেবল সরকার গড়ার নয়, বরং বাংলার হারানো ঐতিহ্য ও বৈভব ফিরিয়ে আনার লড়াই। তিনি সাফ বলেন, “পশ্চিমবাংলার নির্বাচন সামান্য নয়, বাংলার বৈভব স্থাপনের নির্বাচন।”‌

গত কয়েক বছরে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা (যেমন আয়ুষ্মান ভারত ও কিষাণ নিধি) বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছাতে না দেওয়ার জন্য তিনি বর্তমান সরকারকে দায়ী করেন। মোদীর গ্যারান্টি, “নির্মম সরকারের বিদায় হলেই বিকশিত বাংলা হবে।” হলদিয়ার সভা থেকে মোদী আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, পশ্চিমবঙ্গ এখন আর বিভাজনের রাজনীতি চায় না, চায় প্রকৃত উন্নয়ন। তিনি অভিযোগ করেন, তোলাবাজি, সিন্ডিকেট রাজ এবং দুর্নীতির কারণে বাংলার যুবসমাজ আজ দিশেহারা। মেদিনীপুর থেকে শুরু হওয়া পরিবর্তনের স্রোত এবার দক্ষিণ কলকাতার
অলিতে-গলিতে ঢুকে পড়েছে।

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়েছেন যে, তিনি আবারও মুখ্যমন্ত্রীকে পরাজিত করে পরিবর্তনের ইতিহাস লিখবেন। প্রধানমন্ত্রীর আজকের বক্তব্য সেই লড়াইকে এক অন্য উচ্চতায় পৌঁছে দিল।

হলদিয়ার এই সভা থেকে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বার্তা মুহূর্তের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। বিশেষ করে “ভবানীপুরেও নন্দীগ্রাম হবে” — এই সোজাসাপ্টা হুঁশিয়ারি তৃণমূল শিবিরের অন্দরে বড়সড় চাপের সৃষ্টি করেছে। ২০২৬-এর মে মাসে বাংলার ভাগ্য কোন দিকে মোড় নেয়, তার ইঙ্গিত আজ হলদিয়ার মাটি থেকেই দিয়ে দিলেন নরেন্দ্র মোদী।