প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটের মুখে এবার কি সরাসরি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ওপরই অনাস্থা প্রকাশ করছেন তৃণমূল নেত্রী? মিনাখার নির্বাচনী সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। ইভিএম (EVM) মেশিন নিয়ে তাঁর দেওয়া ‘নিদান’ ঘিরে প্রশ্ন উঠছে—তবে কি পরাজয় নিশ্চিত জেনেই ভোটারদের বিভ্রান্ত করার শেষ চেষ্টা শুরু করেছেন তিনি? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, মমতার এই মন্তব্য আসলে পরোক্ষে ভোট বয়কটের প্ররোচনা ছাড়া আর কিছুই নয়।
মিনাখার জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি ভোটারদের উদ্দেশে বলেছেন, “ইভিএম মেশিন খারাপ হয়ে গেলে সেই মেশিনে ভোট দেবেন না।” মুখ্যমন্ত্রীর এই একটি বাক্যেই তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। দেশের নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো বুথে ইভিএম খারাপ হলে তা দ্রুত মেরামত বা প্রতিস্থাপনের ব্যবস্থা করা হয় এবং পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু হয়। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী কেন ‘ভোট না দেওয়ার’ পরামর্শ দিলেন? তবে কি সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো সুক্ষ্ম চক্রান্ত চলছে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরণের মন্তব্য সাধারণ ভোটারদের মনে সংশয় তৈরি করে, যা গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।
বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, পায়ের তলার মাটি সরে গিয়েছে বুঝেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন অসংলগ্ন মন্তব্য করছেন। বর্ডার এরিয়াতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নজরদারি এবং ইভিএম-এর স্বচ্ছতা নিয়ে তাঁর ভয় আসলে ‘ছাপ্পা ভোট’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয়। মিনাখার সভায় তিনি দাবি করেছেন, বিজেপিকে ভোট দিলে নাকি মানুষের ‘অস্তিত্ব, ঠিকানা, জাতি, বর্ণ’ সব চলে যাবে। প্রশ্ন উঠছে, ১৫ বছর শাসন করার পর উন্নয়নের বদলে কেন ‘ভীতি’ প্রদর্শন করে ভোট টানতে হচ্ছে? কোনো যুক্তি বা তথ্য ছাড়াই এভাবে মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা কি একজন মুখ্যমন্ত্রীর শোভা পায়?
সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফ (BSF) বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে মমতার আক্রমণাত্মক অবস্থানকেও রাজনৈতিক চাল হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে—এই অভিযোগ তুলে তিনি আসলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর মনোবল ভাঙতে চাইছেন বলে মনে করা হচ্ছে। যাতে তৃণমূলের ‘ক্যাডার বাহিনী’ অবাধে দাপিয়ে বেড়াতে পারে, তার জন্যই কি এই আগাম অভিযোগের ঢাল?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মমতার এই বক্তৃতা আসলে একটি ‘হতাশার দলিল’। প্রথমত, ইভিএম নিয়ে অনাস্থা প্রকাশ করে তিনি আগাম পরাজয়ের অজুহাত তৈরি করে রাখছেন। দ্বিতীয়ত, জাতি-ধর্ম-অস্তিত্বের ভয় দেখিয়ে মেরুকরণের রাজনীতিকে তীব্র করতে চাইছেন। কিন্তু বর্তমান বাংলার মানুষ আর এই চেনা ছকে পা দিতে নারাজ। ইভিএম-এ ভোট না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আসলে নিজের পায়ের কুড়ুল মারছেন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মিনাখার সভা থেকে মমতার এই ফরমান কেবল একটি রাজনৈতিক বক্তৃতা নয়, বরং এটি নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করার একটি অপপ্রয়াস। ইভিএম এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এই আক্রমণ শেষ পর্যন্ত ব্যুমেরাং হয়ে তৃণমূলের দিকেই ফিরে আসবে কি না, তা ইভিএম খোলার দিনই পরিষ্কার হয়ে যাবে। আপাতত, মমতার এই মন্তব্যে সরগরম বাংলার অলিগলি।