প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার ২০২৬-এর মেগা লড়াইয়ের দামামা বাজার পরেই রাজ্যে বড়সড় রাজনৈতিক আলোড়ন। দীর্ঘদিনের জল্পনা আর রাজনৈতিক টানাপোড়েনের অবসান ঘটিয়ে বড়সড় পদক্ষেপ করল আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল এআইএমআইএম (AIMIM)। হুমায়ুন কবীরের নেতৃত্বাধীন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ (AJUP)-র সঙ্গে সমস্ত নির্বাচনী সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানানো হয়েছে হায়দরাবাদের মিম নেতৃত্বের পক্ষ থেকে। ভোটের ময়দানে পুরোদমে নামার আগেই এই বিচ্ছেদ যে রাজ্যের বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কের অংক ওলটপালট করে দিতে পারে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এই নাটকীয় মোড়ের নেপথ্যে রয়েছে একটি কথিত স্টিং ভিডিও এবং কিছু সংবেদনশীল মন্তব্য। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করা হয় যে, হুমায়ুন কবীর পর্দার আড়ালে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং হুমায়ুন কবীর নিজে এই ভিডিওটিকে ‘সাজানো ও ভিত্তিহীন’ বলে পাল্টা দাবি করেছেন।
এআইএমআইএম-এর পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় (X) একটি পোস্টের মাধ্যমে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট মন্তব্য বা ঘটনাপ্রবাহে বাংলার মুসলিম সম্প্রদায়ের এক ধরণের ‘অসহায়তা’ ফুটে উঠেছে। দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি বজায় রাখতেই আসাদউদ্দিন ওয়েইসি জোট বাতিলের এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। ফলে আসন্ন নির্বাচনে মিম এখন ‘একলা চলো’ নীতিতে এগোবে।
ইতিমধ্যেই এআইএমআইএম ১২ জন প্রার্থীর প্রথম তালিকা প্রকাশ করেছে। মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ, মালদহের সুজাপুর এবং পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল উত্তরের মত আসনগুলোতে প্রার্থী দিয়ে তারা নিজেদের শক্তি পরীক্ষার বার্তা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই একক লড়াইয়ের ফলে ভোট কাটাকাটির সমীকরণ তৈরি হতে পারে, যা শাসক দল তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা রাখে। আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় বাংলায় ভোটগ্রহণ। তার ঠিক আগেই ওয়েইসির এই পদক্ষেপ কি তবে বিরোধী শিবিরের জন্য বিশেষ কোনো বার্তা? নাকি এর পেছনে রয়েছে আরও গভীর কোনও কৌশল? আপাতত এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে আগামী ৪ মে নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের দিন।