প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কথায় বলে, ‘সবুরে মেওয়া ফলে’। বাংলার কৃষকদের জন্য সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ এক অভাবনীয় ‘ধামাকা’ উপহার দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বিধাসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আজ কলকাতায় দলের নির্বাচনী ইস্তেহার বা ‘সংকল্প পত্র’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে শাহ কার্যত তাসের ঘরের মত ওলটপালট করে দিলেন রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ। তিনি স্পষ্ট ঘোষণা করলেন, বাংলায় বিজেপি সরকার গড়লেই প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PM-Kisan) প্রকল্পের অনুদানে আসবে এক বৈপ্লবিক জোয়ার।

এতদিন কেন্দ্রের ৬০০০ টাকা পেতেন কৃষকরা, কিন্তু অমিত শাহ আজ যে ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিলেন, তাতে বাংলার কৃষকদের জন্য এটি হবে এক আক্ষরিক অর্থেই ‘সোনায় সোহাগা’ ব্যাপার। শাহ জানান, কেন্দ্রের দেওয়া বার্ষিক ৬০০০ টাকার সঙ্গে রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে অতিরিক্ত আরও ৩০০০ টাকা যুক্ত করা হবে। অর্থাৎ, কোনো কাটছাঁট ছাড়াই বাংলার নথিভুক্ত কৃষকরা বছরে মোট ৯০০০ টাকা সরাসরি নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, এটি কেবল একটি প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাংলার গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দেওয়ার এক সুপরিকল্পিত চাল। শাহ তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, “মোদী সরকার যা বলে তা পাথরের রেখা। আমরা চাই বাংলার কৃষকরা যেন দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আর্থিক সুরক্ষা পান। কেন্দ্রে মোদীজি ৬০০০ টাকা দিচ্ছেন, আমরা এখানে ক্ষমতায় এলে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আরও ৩০০০ টাকা দেব। এর ফলে বাংলার কৃষকদের হাতে প্রতি বছর ৯০০০ টাকা পৌঁছে যাবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্পষ্ট করেছেন যে, এই টাকার বন্টন হবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ পদ্ধতিতে। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা ‘ভাইপো-সিন্ডিকেট’-এর এখানে কোনো স্থান নেই। সরাসরি ‘ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার’ (DBT)-এর মাধ্যমে কিস্তিতে কিস্তিতে এই টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়বে। এর ফলে প্রান্তিক চাষিরা সার, বীজ ও চাষের অন্যান্য সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে বড়সড় আর্থিক স্বস্তি পাবেন।

এক নজরে নতুন প্রস্তাবিত ‘শাহী প্যাকেজ’:কেন্দ্রীয় অনুদান (PM-Kisan): বছরে ৬০০০ টাকা।বিজেপি সরকারের অতিরিক্ত প্রতিশ্রুতি: বছরে ৩০০০ টাকা।সর্বমোট বার্ষিক প্রাপ্তি: ৯০০০ টাকা।সুবিধাভোগী: রাজ্যের প্রতিটি নথিভুক্ত কৃষক পরিবার।পদ্ধতি: কোনো লিকুইড ক্যাশ নয়, সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।

অমিত শাহের এই ‘৯০০০ টাকার গ্যারান্টি’ সামনে আসার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ কৃষকদের মধ্যে এই নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও উন্মাদনা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজ্যের বর্তমান শাসক দলের বিভিন্ন প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে বিজেপির এই ‘শাহ-গ্যারান্টি’ এক অত্যন্ত শক্তিশালী রাজনৈতিক অস্ত্র। এখন দেখার, ব্যালট বক্সে এই বিশাল আর্থিক প্যাকেজের প্রতিশ্রুতি কতটা ‘ম্যাজিক’ দেখায়।

বিজেপির দাবি, এই সংকল্প কেবল গদি দখলের জন্য নয়, বরং বাংলার কৃষকদের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাঁদের আয় এক লাফে বাড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই মেগা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।