প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার ভোট যুদ্ধের ময়দান এবার আক্ষরিক অর্থেই অগ্নিগর্ভ! আর সেই উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন খোদ দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপির প্রধান সেনাপতি অমিত শাহ। শুক্রবার পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরায় নির্বাচনী জনসভা থেকে বিরোধীদের কার্যত ‘ডেডলাইন’ বেঁধে দিলেন তিনি। সাফ জানিয়ে দিলেন, আগামী ৫ তারিখের পর বাংলার অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের ঠাঁই হবে শ্রীঘরে। শাহী মেজাজে এই চরম হুঁশিয়ারির পর থেকেই গোটা রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে অভূতপূর্ব তোলপাড়।
এদিন ডেবরার বিশাল জনসভায় তিল ধারণের জায়গা ছিল না। জনসমুদ্রের সামনে দাঁড়িয়ে শাহ সরাসরি তোপ দাগেন বর্তমান শাসকদলের বিরুদ্ধে। মমতাজির শাসনের কথা উল্লেখ করে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, “মমতাজির আমলে যে গুন্ডারা সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার করছে, যারা সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের আজ সাফ বলে দিচ্ছি—কোথায় যাবে এখনই ঠিক করে নাও। কারণ তোমাদের সময় ফুরিয়ে আসছে।” এখানেই না থেমে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কড়া ভাষায় যোগ করেন, “আপনারা লিখে রাখুন, ৫ তারিখের পর ওই সব অত্যাচারীদের জেলে যেতেই হবে। কারোর রেহাই নেই, কোনো সুপারিশ কাজে আসবে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অমিত শাহের এই মন্তব্য অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী এবং তাৎপর্যপূর্ণ। এর আগে বিভিন্ন সভায় তিনি ‘দুর্নীতিমুক্ত বাংলা’ গড়ার ডাক দিয়েছিলেন, কিন্তু এবারের ভাষা ছিল অনেক বেশি তীক্ষ্ণ এবং সরাসরি ‘টার্গেট’ করা। ‘জেলে পাঠানোর’ এই প্রকাশ্য ঘোষণা কি কোনো বড় কেন্দ্রীয় এজেন্সির বড়সড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত? সেই প্রশ্নই এখন হাড়হিম করা আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে ডেবরা থেকে ধর্মতলা—সর্বত্র। শাহী হুঙ্কারের পর থেকেই ডেবরা ও সংলগ্ন এলাকায় বিজেপি কর্মীদের মনোবল এখন হিমালয় সদৃশ। অন্যদিকে, শাহের এই রণংদেহি মেজাজ দেখে শাসক শিবিরের অন্দরেও শুরু হয়েছে তীব্র গুঞ্জন।
অমিত শাহ এদিন দাবি করেন, বাংলার মানুষ এবার স্রেফ ভোট দেওয়ার জন্য নয়, বরং শোষণের হাত থেকে মুক্তি পেতে পরিবর্তনের লড়াই লড়তে তৈরি। সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি আর গুন্ডারাজ থেকে মুক্তি পেতে সাধারণ মানুষ যে এখন পদ্ম শিবিরের দিকেই একনিষ্ঠভাবে তাকিয়ে আছে, তা ভিড় দেখলেই বোঝা যাচ্ছে। শাহের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “বাংলার মা-বোনেদের ওপর যারা দিনের পর দিন অত্যাচার চালিয়েছে, ৫ তারিখের পর আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং কোনো অপরাধীই রেহাই পাবে না। গুন্ডাদের আস্তানা হবে শুধু গারদের ওপারে।”
এদিন শাহের বক্তৃতায় বার বার উঠে এসেছে ‘আইনের শাসন’ এবং ‘অত্যাচারীদের শেষ দিন’-এর কথা। রাজনৈতিক মহলে এখন একটাই প্রশ্ন—৫ তারিখের পর কি সত্যিই কোনো বড়সড় ধড়পাকড় শুরু হতে চলেছে? কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এই মেজাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, দিল্লির বিশেষ নজর এবার সরাসরি বাংলার অরাজকতা সৃষ্টিকারীদের ওপর পড়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি, এই হুঙ্কার বিরোধীদের মনে যেমন ত্রাস সৃষ্টি করেছে, তেমনই সাধারণ ঘরহারা বা অত্যাচারিত মানুষের মনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
এখন দেখার, ৫ তারিখের সেই ‘মহাসন্ধিক্ষণ’-এ বাংলার রাজনীতির জল কোন দিকে গড়ায়। সত্যিই কি শ্রীঘরে ঠাঁই হবে ‘অত্যাচারীদের’? শাহের এই হুঙ্কার কি কেবলই নির্বাচনী ভাষণ নাকি কোনো আসন্ন বড় ঝড়ের পূর্বাভাস—তা নিয়ে এখন চায়ের দোকান থেকে শুরু করে ড্রয়িং রুম—সবখানেই তুঙ্গে চর্চা।