প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় কি তবে পরিবর্তনের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেল? সভা নির্বাচনের আবহে আজ পূর্বস্থলীর মাটি থেকে তেমনই এক বিস্ফোরক ‘গ্যারান্টি’ দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। যা শুনে কার্যত কেঁপে উঠেছে নবান্নের অলিন্দ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ‘পায়ে পা দিয়ে লড়াই’ করার মানসিকতাকে বিঁধে মোদী আজ স্পষ্ট করে দিলেন, আগামী ৪ মে-র পর বাংলায় কী হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকে ঘটা করে চালু হবে ‘আয়ুষ্মান ভারত’, যা এতদিন আটকে রেখেছে তৃণমূল সরকার।

এদিন পূর্বস্থলীর জনসভায় ভিড়ে ঠাসা ময়দানে দাঁড়িয়ে মোদী সরাসরি আক্রমণ শানান তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পগুলিকে বাংলার মানুষের কাছে পৌঁছাতে দিচ্ছে না শাসকদল। বিশেষ করে পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প নিয়ে তৃণমূলের অনীহাকে তীব্র কটাক্ষ করেন তিনি। মোদী বলেন, “বাংলার গরিব মানুষ চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছেন, অথচ নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য তৃণমূল এই প্রকল্প এখানে চালু করতে বাধা দিচ্ছে। মানুষের জীবন নিয়ে এই ছিনিমিনি আর সহ্য করা হবে না।”

সাধারণত ভোটের ফল প্রকাশের পর নতুন সরকার গঠন নিয়ে জল্পনা থাকে, কিন্তু মোদী আজ এক কদম এগিয়ে ডেডলাইন সেট করে দিলেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “৪ মে-র পর বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেবেন। আর আমার গ্যারান্টি রইল, সেই নতুন সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই আয়ুষ্মান ভারত যোজনা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে মোদী একদিকে যেমন কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করলেন, অন্যদিকে বাংলার সাধারণ ভোটারদের কাছে এই বার্তাও পৌঁছে দিলেন যে, ডাবল ইঞ্জিন সরকার এলে সরাসরি কেন্দ্রীয় সুবিধা মিলবে।

বাংলার রাজনীতিতে ‘স্বাস্থ্যসাথী’ বনাম ‘আয়ুষ্মান ভারত’ বিতর্ক দীর্ঘদিনের। রাজ্য সরকার দাবি করে তাদের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে সবাই সুবিধা পায়, কিন্তু বিজেপির অভিযোগ, ওই কার্ডে বড় চিকিৎসার পর্যাপ্ত সুবিধা নেই এবং অনেক বড় হাসপাতাল তা গ্রহণ করে না। প্রধানমন্ত্রী আজ সেই যন্ত্রণার জায়গাটিতেই আঘাত করেছেন। তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, মোদীর গ্যারান্টি মানেই কাজের নিশ্চয়তা। ৪ মে-র পর বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় যে আমূল বদল আসবে, সেই স্বপ্নই আজ দেখালেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বিরোধীরা একে নির্বাচনী চমক বললেও, মোদী ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনা তুঙ্গে। মোদী অত্যন্ত সুকৌশলে ‘বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী’ ও ‘ক্যাবিনেট সিদ্ধান্ত’-এর কথা উল্লেখ করেছেন, যা একটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অংশ। ফলে এই বক্তব্যকে ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।