প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে রণহুঙ্কার ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গতকাল শিলিগুড়ির কাওয়াখালি মাঠের জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট ভাষায় অভিযোগ করেন যে, রাজ্যের শাসকদল আদিবাসীদের উন্নয়নে ক্রমাগত বাধা সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে এসেছে আদিবাসী গ্রামে জল পৌঁছে দেওয়া থেকে শুরু করে রাজ্যে চলা ‘ভয়ের সাম্রাজ্য’ এবং ‘গুন্ডা রাজ’ অবসানের কড়া হুঁশিয়ারি।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণের শুরুতেই আদিবাসীদের প্রতি কেন্দ্রের দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তিনি সরাসরি অভিযোগ করে বলেন, “বিজেপি সরকার আদিবাসীদের জন্য রাতদিন কাজ করে চলেছে। কিন্তু এই রাজ্যে তৃণমূলের সরকার সেই কাজেও পদে পদে বাধা দিচ্ছে।” মোদীর মতে, আদিবাসী ভাই-বোনদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কেন্দ্র থেকে যে সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্প পাঠানো হচ্ছে, রাজ্য সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে সেগুলোকে আটকে দিচ্ছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন আদিবাসী সমাজকে তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রাখা হচ্ছে?

এদিনের সভায় প্রধানমন্ত্রী সবথেকে বেশি জোর দেন আদিবাসী গ্রামগুলোতে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার প্রকল্পের ওপর। তিনি একটি তুলনামূলক পরিসংখ্যান তুলে ধরে রাজ্য সরকারকে চরম অস্বস্তিতে ফেলেন। মোদী বলেন, “আদিবাসী গ্রামগুলোতে জল পৌঁছে দেওয়ার জন্য কেন্দ্র সরকার নিরলস পরিশ্রম করছে। আমাদের প্রতিবেশী রাজ্য বিহারে এই প্রকল্পের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, এই বাংলায় ২৫ শতাংশ কাজও শেষ করা যায়নি।” প্রধানমন্ত্রীর এই অভিযোগ সরাসরি ইঙ্গিত করে যে, কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়ণে রাজ্য প্রশাসন কতটা উদাসীন।

তৃণমূলের শাসনকালকে ‘ভয়ের সাম্রাজ্য’ বলে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, “তৃণমূল সরকার গরিব আর আদিবাসী পরিবারের ওপর লাগাতার অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। গোটা রাজ্যে ওরা একটা আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করে রেখেছে।” মোদীর দাবি, সাধারণ মানুষ বিশেষ করে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির মানুষ এই সরকারের আমলে সুরক্ষিত নয়। মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করা হচ্ছে এবং তাঁদের ভয় দেখিয়ে দাবিয়ে রাখা হচ্ছে বলে তিনি সরব হন।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী যে কতটা কড়া অবস্থান নিতে চলেছেন, তা তাঁর শেষদিকের কথাগুলোতে স্পষ্ট হয়ে যায়। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে ঘোষণা করেন, “তৃণমূলের এই ভয়ের সাম্রাজ্য সরাতে হবে। আর একমাত্র বিজেপিই এই কঠিন কাজ করতে সক্ষম।” তিনি আরও এক ধাপ এগিয়ে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে সব গুন্ডা ও মাফিয়াদের খুঁজে বের করে জেলে পাঠানো হবে। কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।” প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

শিলিগুড়ির এই সভা থেকে মোদীজি কেবল উন্নয়নের খতিয়ান দেননি, বরং তৃণমূলের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ডাক দিয়েছেন। বিশেষ করে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ককে লক্ষ্য করে তাঁর এই ‘জল রাজনীতি’ এবং ‘গুন্ডা রাজ’ অবসানের ডাক উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল। সাধারণ মানুষ কি এই ‘ভয়ের সাম্রাজ্য’ থেকে মুক্তি পেতে মোদীর আহ্বানে সাড়া দেবেন? উত্তর লুকিয়ে আছে আসন্ন নির্বাচনের ব্যালট বক্সে।