প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শহর কলকাতায় ইডির মেগা অভিযানে পর্দাফাঁস হলো এক বিশাল আর্থিক দুর্নীতির। শুধুমাত্র পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিক শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশিই নয়, এই ঘটনার নেপথ্যে উঠে আসছে প্রায় ১১০০ কোটি টাকার জমি কেলেঙ্কারির চাঞ্চল্যকর তথ্য। রবিবার দিনভর টানটান উত্তেজনার পর বেহালার প্রভাবশালী ব্যবসায়ী জয় এস কামদারকে গ্রেপ্তার করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, জয় এস কামদারের বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ১১০০ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। ইডি জানতে পেরেছে, গত মাত্র চার মাসে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রহস্যময় লেনদেন করেছেন এই ব্যবসায়ী। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কোথায় এবং কেন পাঠানো হয়েছে, তার কোনো সদুত্তর দিতে না পারায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
রবিবার সকাল ৭টা থেকে বালিগঞ্জের ফার্ন রোডে কলকাতা পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের ফ্ল্যাটে শুরু হয় তল্লাশি। টানা ২০ ঘণ্টা পর রবিবার মাঝরাত নাগাদ যখন আধিকারিকরা বেরিয়ে আসেন, তাঁদের হাতে ছিল বাজেয়াপ্ত করা নথির স্তূপ। এমনকি তল্লাশিতে জয় এস কামদারের বাড়ি থেকে প্রায় ১.২ কোটি টাকা নগদ উদ্ধার হয়েছে বলেও সূত্রের খবর।
তদন্তকারীদের দাবি, এই গোটা জালিয়াতি চক্রের মূলে রয়েছে পলাতক অপরাধী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু। এই সোনা পাপ্পু সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই জমি দখল ও তোলাবাজির টাকা সাদা করা হতো বলে অনুমান ইডির। ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের সঙ্গে এই চক্রের কোনো আর্থিক যোগসূত্র ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই হানা। উল্লেখ্য, এর আগে ১ এপ্রিল এই মামলাতেই ইডি ১.৪৭ কোটি টাকা নগদ ও প্রচুর সোনা উদ্ধার করেছিল।
ভোটের মুখে পুলিশের বড়কর্তার বাড়িতে ইডির এই হানা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। অন্যদিকে, গ্রেপ্তারের পর অসুস্থ বোধ করায় জয় এস কামদারকে আরজি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্তমানে বাজেয়াপ্ত হওয়া নথিপত্র এবং ব্যাংক ট্রানজ্যাকশন খতিয়ে দেখে ইডি বোঝার চেষ্টা করছে, এই ১১০০ কোটির কেলেঙ্কারির শিকড় আর কতটা গভীরে।