প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বেজে গিয়েছে। আজ, ২৩ এপ্রিল, পশ্চিমবঙ্গের প্রথম দফার ভোটগ্রহণের শুরুতেই খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষকে ঘিরে তৈরি হলো তীব্র কৌতুহল। সকাল সকাল খড়গপুরের সেরোসা স্টেডিয়ামের ২৬৩ নম্বর বুথে পৌঁছে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন তিনি। কিন্তু ভোট দিয়ে বেরোনোর পর তাঁর এক মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
সবসময় সক্রিয় থাকা এবং ময়দান কাঁপানো এই নেতা ভোট দেওয়ার পর সংবাদমাধ্যমের সামনে বলেন, “আপাতত আমি বাড়িতেই থাকব। কোথাও সমস্যা হলে, তখন আমি যাব। আমার মনে হয় না বেশি মুভমেন্ট করার দরকার আছে।” নির্বাচনের মতো টানটান উত্তেজনার দিনে বিজেপি প্রার্থীর এই আকস্মিক ‘নিষ্ক্রিয়তা’ অনেককেই চমকে দিয়েছে। তবে এর পিছনে কি কোনো গূঢ় কৌশল রয়েছে নাকি তিনি সত্যিই আত্মবিশ্বাসী, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা। দিলীপ ঘোষ অবশ্য এর ব্যাখ্যা হিসেবে জানিয়েছেন যে, সাধারণ মানুষ শান্তিতেই ভোট দিচ্ছেন এবং পরিবেশ আপাতত ঠিক আছে বলেই তিনি মনে করছেন।
আজ রাজ্যের ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। এর মধ্যে খড়গপুর সদর অন্যতম হাই-ভোল্টেজ আসন। এবার খড়গপুর সদরে লড়াই মূলত বিজেপির দিলীপ ঘোষ বনাম তৃণমূল কংগ্রেসের প্রদীপ সরকারের মধ্যে। দিলীপ ঘোষ ২০১৬ সালে এই আসন থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন, পরে ২০১৯-এ মেদিনীপুরের সাংসদ হন।
প্রথম দফায় প্রায় ৩.৬ কোটি ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। সুষ্ঠু ভোটদানের জন্য নির্বাচন কমিশন ২,৪০০-র বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেছে। সেরোসা স্টেডিয়ামের যে ২৬৩ নম্বর বুথে দিলীপ ঘোষ ভোট দিয়েছেন, সেখানে সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তা লক্ষ্য করা গিয়েছে।
নির্বাচনী আবহে যখন চারদিকে উত্তেজনা চরমে, তখন দিলীপ ঘোষের এই ‘শান্ত থাকা’ কি ভোটের ফলাফলে কোনো বড় ইঙ্গিত দিচ্ছে? তা জানতে নজর রাখতে হবে ৪ মে-র ফলাফলের দিকে।