প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দ্বিতীয় দফার মহারণের ঠিক আগে নিজের খাসতালুক ভবানীপুরে কার্যত ‘রুদ্রমূর্তি’ ধারণ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার বিকেলে ভবানীপুরের রাস্তায় তাঁকে যে মেজাজে দেখা গেল, তাকে কেবল ‘জনসংযোগ’ বললে ভুল হবে; রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে বিরোধীদের দুর্গ ভাঙার এক সুপরিকল্পিত মাস্টারস্ট্রোক।
এদিন ভবানীপুরের বহুতল আবাসনগুলোতে ঢুকে সরাসরি আবাসিকদের সঙ্গে কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সাধারণত ভবানীপুরের বহুতলগুলোতে বসবাসকারী অবাঙালি এবং উচ্চবিত্ত ভোটারদের একটি বড় অংশ বিজেপির দিকে ঝুঁকে থাকে বলে মনে করা হয়। সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘ডোর-টু-ডোর’ পৌঁছে যাওয়া আসলে সেই ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসানোর চেষ্টা।
এরপরই তাঁকে দেখা যায় একদম সাধারণ মানুষের ভিড়ে। সবজি বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলা এবং ব্যক্তিগতভাবে খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, তিনি এখনও ‘ঘরের মেয়ে’। এই দুই স্তরের প্রচারই প্রমাণ করে যে, এবারের ভোটে তিনি কোনো অংশকেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না।
২০২১-এর উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে রেকর্ড প্রায় ৫৮,০০০ ভোটে জিতেছিলেন। কিন্তু ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের পরিসংখ্যান বলছে, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত কিছু ওয়ার্ডে লিড নিয়েছিল বিজেপি। সেই চোরাবালি আটকাতেই কি এবার বাড়তি তৎপরতা?
ওড়িশা থেকে টাকা আসার যে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী তুলেছেন, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি মূলত ভোটারদের মধ্যে একটি ‘বহিরাগত বনাম ঘরের লোক’ আবেগ তৈরির চেষ্টা। ভবানীপুরের মিশ্র জনজাতি অধ্যুষিত এলাকায় পাঞ্জাবি, গুজরাটি এবং বাঙালি ভোটের মেরুকরণ রুখতেই তাঁর এই ‘পার্সোনাল টাচ’।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন যে ভবানীপুর কেবল একটি আসন নয়, এটি তাঁর সম্মানের লড়াই। বহুতলের ড্রয়িংরুম থেকে বাজারের সবজি বিক্রেতা—সবার কাছে তিনি বার্তা দিলেন যে শাসনক্ষমতা তাঁর হাতে থাকলেও, লড়াইয়ের ময়দানে তিনি আজও লড়াকু নেত্রী। দ্বিতীয় দফার ঠিক আগে এই প্রচার কর্মীদের মনোবল তুঙ্গে নিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট।এখন দেখার, ২৯ এপ্রিলের নির্বাচনে ভবানীপুরের এই ‘মমতা-ম্যাজিক’ ব্যালট বক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।