প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ঠিক আগে বড়সড় ধামাকা দিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। ভোট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং রিগিং-ছাপ্পার কালচার চিরতরে বন্ধ করতে জারি হলো এক ‘মরণকামড়’ নির্দেশিকা। এবার থেকে ভুয়ো ভোট দিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেই কপালে জুটবে ১ বছরের জেল। কমিশনের এই কড়া অবস্থানে ঘুম উড়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর ‘মাথা’দের।

প্রতিটি বুথে বসানো হয়েছে অত্যাধুনিক ওয়েবকাস্টিং ক্যামেরা। এই ক্যামেরা শুধু ছবি তুলবে না, সরাসরি দিল্লির কন্ট্রোল রুম থেকে নজরদারি করা হবে। কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী: আগে ভুয়ো ভোটার ধরা পড়লে বুথ থেকে বের করে দেওয়া হতো। এবার সরাসরি FIR এবং ১ বছরের কারাদণ্ড। যদি কোনো বুথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ১ সেকেন্ডের জন্যও ক্যামেরা বন্ধ হয়, তবে সেই বুথে সঙ্গে সঙ্গে ভোট বাতিল করে পুনর্নির্বাচনের (Re-poll) ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। বুথের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো রাজনৈতিক জটলা বা প্রচার করা যাবে না। একে কার্যত ‘লক্ষ্মণ রেখা’ হিসেবে ঘোষণা করেছে কমিশন।

কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ভোটার তালিকা থেকে কয়েক লক্ষ ‘ভুয়ো’ এবং ‘মৃত’ ভোটারের নাম ছেঁটে ফেলা হয়েছে। প্রযুক্তির ব্যবহারে এবারের নির্বাচনকে ভারতের ইতিহাসে অন্যতম ডিজিটাল এবং সুরক্ষিত ভোট হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, কমিশনের এই কড়াকড়ি মূলত ভোটারদের আস্থা ফেরানোর চেষ্টা। সাধারণ ভোটাররা যারা হিংসা বা রিগিংয়ের ভয়ে বুথমুখো হতেন না, এই নির্দেশিকা তাদের সাহস যোগাবে। অন্যদিকে, স্থানীয় স্তরের দাপুটে নেতাদের উপর এটি একটি মনস্তাত্ত্বিক চাপ। কারণ, গোলমালের প্রমাণ সরাসরি ভিডিও ফুটেজে থাকায় পার পাওয়া প্রায় অসম্ভব। কমিশনের এই ‘অপারেশন ক্লিন আপ’ দ্বিতীয় দফার ভোটে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।