প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর বিধানসভা মহাযুদ্ধের দ্বিতীয় তথা অন্তিম দফার ভোট শেষ হতে না হতেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। এবারের নির্বাচনে রেকর্ড ৯২.৬% ভোট পড়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যে উঠে এসেছে। কিন্তু ভোটের লড়াই যখন বুথ ফেরত সমীক্ষার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন।
বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী অধীর চৌধুরী গতকাল ভোট শেষের পর দাবি করেছেন যে, শাসকদলের পায়ের তলা থেকে মাটি সরতে শুরু করেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে এবার কিছুটা বিচলিত এবং হতাশ। অধীরের দাবি, মুখ্যমন্ত্রীর বুথে বুথে ঘুরে বেড়ানোই প্রমাণ করে যে তিনি নিজের জয় নিয়ে নিশ্চিত নন।
অধীর চৌধুরীর মতে, শাসক বিরোধী একটি বড় অংশের ভোট এবার সরাসরি বিরোধীদের বাক্সে পড়েছে। তাঁর পাটিগণিত অনুযায়ী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি ৩০-৪০ শতাংশ ভোট পান, তবে বাকি ৬০-৭০ শতাংশ ভোট গিয়েছে বিরোধীদের ঝুলিতে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, এবার দ্বিতীয় দফার ভোটের একটি বড় অংশ বিজেপির পক্ষে গিয়েছে, যা শাসকদলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এবারের দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসনে ভোট গ্রহণ হয়েছে। গতকাল রাত পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ৯২.৬% ভোট রেকর্ড করা হয়েছে, যা স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে অন্যতম সর্বোচ্চ। জেলা ভিত্তিক হারে পূর্ব বর্ধমান (৯৩.৪৮%) এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনায় (৯১.৭৩%) বিপুল পরিমাণ ভোট পড়েছে। তবে ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে সরাসরি লড়াই এবার সবার নজর কেড়েছে।
অধীর চৌধুরীর এই দাবি যদি সঠিক হয়, তবে তা বাংলার রাজনীতিতে এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, শাসক বিরোধী ভোটের মেরুকরণ যদি সত্যিই বিজেপি এবং অন্যান্যদের মধ্যে এমনভাবে বিভাজিত হয়, তবে তৃণমূলের আসন সংখ্যায় বড় প্রভাব পড়তে পারে। তবে অধীর চৌধুরী এও মনে করেন যে, সরকার বিরোধী হাওয়া থাকলেও সেই ভোট ভাগ হয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত কার লাভ হবে, তা ৪ ঠা মে ফলাফল প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষিপ্ত অশান্তির খবর পাওয়া গেলেও এই রেকর্ড ভোটদান গণতন্ত্রের উৎসবে মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণেরই প্রমাণ দেয়। এখন দেখার, ৪ ঠা মে বাংলার সাধারণ মানুষের রায় কার ভাগ্য নির্ধারণ করে।