প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর বঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলের প্রাথমিক ট্রেন্ড আসতেই নবান্নের অলিন্দে এখন শ্মশানের নিস্তব্ধতা। পরিবর্তনের ডাক দিয়ে যে পরিবর্তনের সরকার বাংলায় এসেছিল, আজ সেই সরকারেরই স্তম্ভরা তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছেন। সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের আগুনে পুড়ে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার অন্তত ২৩ জন দাপুটে মন্ত্রী নিজ নিজ কেন্দ্রে চূড়ান্ত পরাজয়ের মুখে দাঁড়িয়ে।

বাংলার রাজনীতিতে যাঁরা এতদিন নিজেদের ‘অজেয়’ মনে করতেন, আজ তাঁদের সেই অহঙ্কার চূর্ণ করেছে জনতা জনার্দন। উত্তর থেকে দক্ষিণ— সর্বত্রই বইছে গেরুয়া ঝড়।
শ্যামপুকুর: খোদ নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা তাঁর ঘরের মাঠে বিজেপির পূর্ণিমা চক্রবর্তীর ঝড়ে ধরাশায়ী।
দমদম: দীর্ঘদিনের শিক্ষামন্ত্রী ও সরকারের তথাকথিত ‘বুদ্ধিজীবী মুখ’ ব্রাত্য বসু আজ তাঁর কেন্দ্রেই কোণঠাসা। বিজেপি প্রার্থী অরিজিৎ বক্সীর কাছে কয়েক হাজার ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে থাকা ব্রাত্যর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। সবং ও শালবনী: মেদিনীপুরের মাটি এবার আর সঙ্গ দেয়নি শাসকদলের। বর্ষীয়ান নেতা মানস ভুঁইয়া সবং-এ পরাজয়ের প্রহর গুনছেন। অন্যদিকে, শালবনীতে জনজাতি ভোট সম্পূর্ণভাবে বিজেপির দিকে মেরুকরণ হওয়ায় পর্যুদস্ত হয়েছেন শ্রীকান্ত মাহাতো।

তালিকায় নাম রয়েছে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, সুজিত বসু, পুলক রায়, সাবিনা ইয়াসমিন, স্নেহাশিস চক্রবর্তী এবং বীরবাহা হাঁসদার মত হেভিওয়েটদের। এমনকি উত্তরবঙ্গের দাপুটে নেতা উদয়ন গুহ দিনহাটায় বিজেপি প্রার্থীর কাছে মুখ থুবড়ে পড়েছেন। বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত বারুইপুর পশ্চিমে পিছিয়ে রয়েছেন, যা কার্যত নজিরবিহীন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ২৩ জন মন্ত্রীর পিছিয়ে পড়া কেবল ব্যক্তিগত হার নয়, বরং মমতার দীর্ঘ অপশাসনের প্রতি বাংলার মানুষের চরম অনাস্থার দলিল। নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে লাগামছাড়া তোষণ নীতি— প্রতিটি ইস্যুতেই বাংলার মানুষ ব্যালট বক্সে যোগ্য জবাব দিয়েছে। যে মন্ত্রীরা এতদিন আমজনতার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এসি ঘরে বসে ফাইল চালাতেন, আজ তাঁরা জনরোষের সামনে অসহায়।

দুপুর গড়াতেই ট্রেন্ড বলছে, বিজেপি রাজ্যে ১৯০-এর বেশি আসনে লিড নিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার দিকে এগোচ্ছে। ২০১১ সালে যেভাবে বামফ্রন্টের তাবড় মন্ত্রীরা পরাজিত হয়ে একটি দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন, ২০২৬-এ সেই ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি দেখছে বাংলা। সময়ের অপেক্ষা মাত্র, বাংলার ভাগ্য এখন নতুন ভোরের প্রতীক্ষায়।