প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় পরিবর্তনের নতুন সূর্যোদয় ঘটেছে। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বাংলার মানুষ দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করেছেন বিজেপি-কে। আর এই ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর যখন তৃণমূল শিবিরের অন্দরে নিস্তব্ধতা, ঠিক তখনই কালীঘাটের অন্দরে দেখা গেল এক অদ্ভুত দৃশ্য। দিদিকে সান্ত্বনা দিতে উত্তরপ্রদেশ থেকে উড়ে এলেন সপা প্রধান অখিলেশ যাদব।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ৮০টি আসনে গুটিয়ে যাওয়া তৃণমূলের জন্য অখিলেশ যাদবের ‘আপনি হারেননি’ মন্তব্যটি আসলে একটি রাজনৈতিক মরীচিকা ছাড়া আর কিছুই নয়। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষ যখন ব্যালট বাক্সে রায় দিয়ে দিয়েছেন, তখন সেই জনাদেশকে অস্বীকার করে অখিলেশ বাবু ঠিক কী বোঝাতে চাইলেন? জনতাকে অগ্রাহ্য করার এই মানসিকতা কি গণতন্ত্রের পরিপন্থী নয়? প্রশ্ন তুলছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরাই।
নিজের রাজ্যে বারবার ব্যর্থ হওয়ার পর অখিলেশ যাদব এখন বাংলায় এসে ‘ভোট লুটের’ তত্ত্ব খাড়া করছেন। অথচ কমিশনের কঠোর নজরদারিতে হওয়া এই নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়কে যারা স্বীকার করতে পারছেন না, তারা কি আসলে সাধারণ মানুষের বিচার বুদ্ধিকেই অপমান করছেন? উত্তরপ্রদেশের যে ‘মডেল’কে তিনি কটাক্ষ করছেন, সেই মডেলের প্রতি বাংলার মানুষের আস্থা আজ প্রমাণিত।
কালীঘাটে উপহারের আদান-প্রদান আর সৌজন্য বিনিময় চললেও, বাস্তবটা কিন্তু কঠিন। বাংলার মানুষ উন্নয়ন আর সুশাসনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগ আর সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে মানুষ যে রুখে দাঁড়িয়েছে, তা অখিলেশ-মমতা বৈঠকের কোনো ‘সান্ত্বনা পুরস্কার’ দিয়ে ঢাকা সম্ভব নয়।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই বৈঠক আসলে হতাশাগ্রস্ত দুই নেতার একে অপরকে আঁকড়ে ধরে রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা। বাংলার মানুষ যে রায় দিয়েছেন, তাকে মাথা পেতে নেওয়ার পরিবর্তে বাহানা খোঁজা আসলে জনমতকে অশ্রদ্ধা জানানো। কালীঘাটের দেওয়ালে এখন হারের বিষণ্ণতা, আর বাংলার রাস্তায় পরিবর্তনের নতুন উন্মাদনা। অখিলেশ যাদব হয়ত দিদিকে ‘যোদ্ধা’ বলছেন, কিন্তু বাংলার মানুষ বলছে তারা এখন ‘শান্তি আর উন্নয়নের’ পথে যাত্রী।