প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলার রাজনীতির ইতিহাসে আজ এক সন্ধিক্ষণ। দীর্ঘ ৫৫ বছর পর কলকাতার অভিজাত বলয় ভেঙে বাংলার মসনদে আসীন হলেন এক ‘ভূমিপুত্র’। শুক্রবার বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠকে সিলমোহর পড়ার পর এটা স্পষ্ট যে, মেদিনীপুরের ঘরের ছেলে শুভেন্দু অধিকারীই হতে চলেছেন পশ্চিমবঙ্গের নবম মুখ্যমন্ত্রী। এই জয়ের সাথে সাথেই অবসান ঘটল এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার—যেখানে কলকাতার বাইরে থেকে আসা কোনো জেলা স্তরের নেতা আবার রাইটার্স বিল্ডিংস (বা নবান্ন)-এর শীর্ষাসনে বসতে চলেছেন।
বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রে শেষবার কোনো জেলার নেতা হিসেবে মুখ্যমন্ত্রী পদে বসা এবং মেদিনীপুরের দাপট দেখা গিয়েছিল ১৯৬৭ থেকে ১৯৭১ সালের মধ্যবর্তী সময়ে। মেদিনীপুরের তমলুকের সন্তান, স্বাধীনতা সংগ্রামী অজয় কুমার মুখোপাধ্যায় ছিলেন সেই কিংবান্তী। তারপর দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশক অতিবাহিত হয়েছে। সিদ্ধার্থশঙ্কর রায় থেকে শুরু করে জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিংবা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়—বাংলার চারজন মুখ্যমন্ত্রীই ছিলেন কলকাতার বাসিন্দা। ৫৫ বছর পর সেই মেদিনীপুর থেকেই উঠে এলেন আর এক জননেতা, যিনি গ্রাম-বাংলার নাড়ি নক্ষত্র চেনেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক দশকে বাংলার রাজনীতি মূলত ‘কলকাতা-কেন্দ্রিক’ হয়ে পড়েছিল। পরিসংখ্যান বলছে: ১৯৭২-২০২৪: এই দীর্ঘ সময়কালে মুখ্যমন্ত্রীদের আদি বাড়ি বা কর্মভূমি মূলত দক্ষিণ কলকাতা কেন্দ্রিক ছিল। বিজেপি শুরু থেকেই ‘মাটির মানুষের সরকার’ গড়ার ডাক দিয়েছিল। শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে সেই বার্তাই সফল হলো। তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং মেদিনীপুর, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া তথা রাঢ় বাংলার দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ জননেতা হিসেবে পরিচিত।
বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, এই জয় কেবল ক্ষমতার পালাবদল নয়, এটি আসলে কলকাতার ড্রয়িংরুম পলিটিক্সের বিরুদ্ধে বাংলার প্রান্তিক মানুষের জয়। শুভেন্দু অধিকারীর এই উত্তরণ নিচের কয়েকটি কারণে ঐতিহাসিক। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর গড়ে (ভবানীপুর) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে, জেলার জেদ কলকাতার দাপটকে টেক্কা দিতে পারে। জেলার ভূমিপুত্র মুখ্যমন্ত্রী হওয়ায় মানুষের আশা, এবার উন্নয়নের আলো কেবল কলকাতা বা সংলগ্ন এলাকায় সীমাবদ্ধ না থেকে গ্রাম-বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছাবে।
আগামীকাল, শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যখন শুভেন্দু অধিকারী শপথ নেবেন, তখন উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সেই মঞ্চ কেবল এক নতুন সরকারের সূচনা করবে না, বরং মুছে দেবে ৫৫ বছরের সেই দীর্ঘ অপবাদ—যেখানে বলা হতো ‘জেলার নেতা মুখ্যমন্ত্রীর যোগ্য নন’। বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে অজয় মুখোপাধ্যায়ের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর এই অভিষেক কি তবে নতুন এক ‘সোনালি বাংলা’র শুরু? আজ সেই আশায় বুক বাঁধছে তামাম মেদিনীপুর সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গ।