প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এবার এক অভূতপূর্ব এবং অত্যন্ত সংবেদনশীল মোড়। বিগত সরকারের আমলে স্কুলের পাঠ্যবইয়ে যে বিশেষ রাজনৈতিক ইতিহাস জোর করে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল, তা এবার চিরতরে মুছে ফেলার দাবি উঠল। সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির অষ্টম শ্রেণির ইতিহাসের পাঠ্যসূচি থেকে ‘সিঙ্গুর আন্দোলন’ সংক্রান্ত অধ্যায়টি সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার জন্য রাজ্যের শিক্ষা দফতরে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চিঠি পাঠানো হয়েছে। শিক্ষা মহল ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির আবহে শিক্ষাক্ষেত্রে এই ধরণের বড়সড় পরিবর্তনের দাবি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

শিক্ষা দফতরে পাঠানো ওই চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, অষ্টম শ্রেণির ‘অতীত ও ঐতিহ্য’ পাঠ্যবইয়ে সিঙ্গুর আন্দোলন নিয়ে যে অধ্যায়টি রয়েছে, তা আসলে ইতিহাসের সঠিক বা নিরপেক্ষ প্রতিফলন নয়। বামপন্থী শিক্ষক সংগঠন ‘বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি’ (BSTA)-র তরফে অভিযোগ তোলা হয়েছে, এই আন্দোলনের জেরে সিঙ্গুর থেকে টাটা গোষ্ঠীর বিদায় ঘটেছিল। এর ফলে রাজ্যে শিল্পায়নের ভবিষ্যৎ এবং ভাবমূর্তি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। অথচ পাঠ্যবইয়ে এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ একপেশেভাবে পরিবেশন করে শিক্ষার্থীদের মনস্তত্ত্বে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করা হয়েছিল, যা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। নতুন প্রজন্মের স্বার্থে এই অধ্যায়টি সিলেবাস থেকে উপড়ে ফেলার দাবি জানিয়েছে তারা। একই সুর শোনা গিয়েছে নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতি (ABTA)-র গলাতেও।

এখানেই শেষ নয়, শিক্ষা দফতরের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে ওই শিক্ষক সংগঠন পূর্বতন জমানার অন্যতম মেগা প্রজেক্ট ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পটিকেও অবিলম্বে বাতিল করার দাবি জানিয়েছে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র-ছাত্রীদের ট্যাব বা স্মার্টফোন কেনার জন্য সরকারি কোষাগার থেকে যে ১০,০০০ টাকা করে দেওয়া হতো, তা সম্পূর্ণ বন্ধ করার দাবি তোলা হয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রাজ্য জুড়ে যেভাবে ‘ট্যাব জালিয়াতি’ এবং সরকারি টাকা লোপাটের ভুরি ভুরি অভিযোগ সামনে এসেছে, তার জেরেই এই প্রকল্পটির যৌক্তিকতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠে গেল।

বর্তমান আবহে শিক্ষা দফতর শেষ পর্যন্ত এই জোরালো দাবি মেনে নিয়ে পাঠ্যবই থেকে সিঙ্গুরের অধ্যায়টি বাদ দেয় কি না, এবং কোটি কোটি টাকার ট্যাব প্রকল্প চিরতরে বন্ধ হয়ে যায় কি না—এখন সেটাই দেখার। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে গোটা রাজ্যের শিক্ষা ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।