প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একেই বোধহয় বলে ক্ষমতার আসল পরিবর্তন! রাজ্যে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করতে না করতেই থরথর করে কাঁপতে শুরু করেছে এতদিন ধরে বুক ফুলিয়ে চলা তোলাবাজ ও সিন্ডিকেট চক্র। বছরের পর বছর ধরে রাজ্যের জাতীয় ও রাজ্য সড়কগুলিতে যে ‘বেআইনি টোল-রাজ’ কায়েম ছিল, তার মূলে কুঠারাঘাত করল নবান্ন। রাজ্যের সমস্ত জেলাশাসকদের (DM) অত্যন্ত কড়া নোটিস পাঠিয়ে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, অবিলম্বে চিহ্নিত করে বন্ধ করতে হবে সমস্ত বেআইনি টোলপ্লাজা, অনুমোদনহীন ড্রপ গেট এবং অবৈধ ব্যারিকেড।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে সড়কগুলিতে অবৈধ কর আদায় এবং লরি চালকদের ওপর জুলুম বন্ধ করার যে প্রতিশ্রুতি নতুন শাসক শিবির দিয়েছিল, সরকারে আসতেই তা অক্ষরে অক্ষরে পালন করা শুরু হলো। এক মুহূর্তও সময় নষ্ট না করে সরাসরি নবান্নের শীর্ষ মহল থেকে এই অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। নির্দেশিকায় জেলাশাসকদের যে চরম হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, তা গত কয়েক বছরে নজিরবিহীন।
নবান্ন থেকে জারি করা এই মেগা নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে: সরকারি অনুমোদন ছাড়া চলা সব ধরনের টোল গেট ও ব্যারিকেড দ্রুত গুঁড়িয়ে দিতে হবে। অবৈধভাবে কোনো গাড়ি থেকে এক টাকাও শুল্ক বা ফি আদায় করা তৎক্ষণাৎ বন্ধ করতে হবে। একবার বন্ধ করার পর অপরাধী চক্রগুলি যাতে কোনোভাবেই আবার তা চালু করতে না পারে, তার জন্য জেলাশাসকদের কড়া নজরদারি চালাতে হবে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা। আগামী ১৫ তারিখ দুপুর ১২ টার মধ্যেই রাজ্যের সমস্ত বৈধ ও অবৈধ টোলপ্লাজার এ টু জেড তালিকা তৈরি করে নবান্নে চূড়ান্ত রিপোর্ট পাঠাতে হবে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে যে সমস্ত বৈধ টোলপ্লাজা চলছে, সেগুলির টেন্ডারের মেয়াদ এবং আসল মালিকানার তথ্যও পুঙ্খানুপুঙ্খ স্ক্রুটিনি করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের এই কড়া অবস্থানের জেরে রাতের ঘুম উড়েছে এতদিন এই বেআইনি কারবারের আড়ালে থাকা প্রভাবশালী রাঘববোয়ালদের। অন্যদিকে, ক্ষমতা বদলের সাথে সাথেই প্রশাসনের এই বেনজির সক্রিয়তায় সাধারণ আমজনতা এবং পরিবহন ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। লরি চালকদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের অবসান ঘটিয়ে নতুন সরকার যে সত্যিই রাজ্যে সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে বদ্ধপরিকর, এই একটি নির্দেশেই তা জলের মতো পরিষ্কার হয়ে গেল।