প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) এবং বহু প্রতীক্ষিত সপ্তম বেতন কমিশন রূপায়ণ নিয়ে এবার রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল। আজ, ১৮ মে ২০২৬ তারিখে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দ্বিতীয় ক্যাবিনেট বৈঠকের ঠিক আগেই এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত দিলেন রাজ্য মন্ত্রিসভার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য তথা গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অন্দরে তীব্র চাঞ্চল্য এবং উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ডিএ এবং বেতন কমিশন নিয়ে কর্মীদের প্রত্যাশার পারদ ছিল তুঙ্গে। আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই জ্বলন্ত ইস্যুতেই মুখ খোলেন দিলীপ ঘোষ। অত্যন্ত মার্জিত কিন্তু বাস্তবসম্মত ভঙ্গিতে তিনি বুঝিয়ে দেন, কর্মীদের দাবি নিয়ে সরকার অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে বিচার করলেও রাজ্যের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়।

আজ নবান্নে দ্বিতীয় দফায় বসছে নতুন সরকারের পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠক, যেখানে মূল ফোকাসে রয়েছে রাজ্য সরকারি কর্মীদের ভাগ্য নির্ধারণ। মন্ত্রী স্পষ্ট জানান, রাজ্যে বর্তমানে কিছুটা আর্থিক টান বা সংকট রয়েছে। পূর্বতন সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণের বোঝা সামলে কর্মীদের স্বার্থ সুরক্ষায় পথ খুঁজছে বর্তমান সরকার। রাজ্যবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি জানান, আর্থিক সংকটের কারণে বকেয়া ডিএ এবং সপ্তম বেতন কমিশন পুরোপুরি রূপায়ণ করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে প্রক্রিয়াটি যে সরকারের নজরে রয়েছে, সেই ইঙ্গিত তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন।

গত সপ্তাহের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের সিদ্ধান্ত মেনে ইতিমধ্যেই সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সের ঊর্ধ্বসীমা শিথিল করার ঐতিহাসিক বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে অর্থ দপ্তর, যা কর্মপ্রার্থীদের জন্য বড় স্বস্তি। পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠনের পর এবার সমস্ত জনমুখী প্রকল্প এবং বকেয়া দাবি পূরণের কাজ আরও দ্রুত গতিতে এগোবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আন্দোলনের পর এই নতুন জমানায় দিলীপ ঘোষের এই মন্তব্য একদিকে যেমন আশার আলো দেখাচ্ছে, অন্যদিকে “সময় লাগার” ইঙ্গিতে কর্মীদের মনে তৈরি করেছে সাময়িক ধড়ফড়ানি। আইনি ও প্রশাসনিক সমস্ত দিক খতিয়ে দেখেই যে সরকার পা বাড়াচ্ছে, তা মন্ত্রীর কথায় স্পষ্ট।