প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর নবান্ন থেকে বিদায় নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই দলের অন্দরে আদি বনাম নব্য শিবিরের লড়াই এবার রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে রূপ নিল। দীর্ঘদিন জেল খাটার পর বর্তমানে জামিনমুক্ত প্রাক্তন তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবার সরাসরি তোপ দাগলেন মমতা-অভিষেকের অতি প্রিয় নির্বাচনী উপদেষ্টা সংস্থা ‘আইপ্যাক’ (I-PAC)-এর বিরুদ্ধে। মাটির রাজনীতিকে বাদ দিয়ে কর্পোরেট সংস্কৃতির আমদানিই যে জোড়াফুলের পতনের মূল কারণ, তা খোদ প্রাক্তন মহাসচিবের কথাতেই সিলমোহর পেয়ে গেল।
নির্বাচনী রণকৌশল তৈরিকারী সংস্থাকে তীব্র কটাক্ষ করে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এদিন বলেন, “আইপ্যাক না ছাইপ্যাক ডুবিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসকে। তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে অবিশ্বাসের ছোঁয়া তৈরি করেছিল আইপ্যাক।” এখানেই থামেননি তিনি। দলের অন্দরের আসল সত্যটি ফাঁস করে দিয়ে পার্থবাবু যোগ করেন, “আইপ্যাকের কমেন্ট মানে ভাইপোর কমেন্ট, ঝিঝি পোকার কান্না।” অর্থাৎ, আইপ্যাকের আড়ালে আসলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্পোরেট একনায়কতন্ত্রই যে দল চালাচ্ছিল এবং পুরনো নেতাদের কোণঠাসা করা হচ্ছিল, ক্ষমতা হারানোর পর তা স্পষ্ট করে দিলেন তিনি।
বিজেপি সহ বিরোধী শিবির বরাবরই অভিযোগ করে এসেছে যে, তৃণমূল কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি একটি প্রাইভেট লিমিটেড কর্পোরেট সংস্থায় পরিণত হয়েছে। জামিনমুক্ত পার্থবাবুর এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি বিরোধীদের সেই দাবিকেই ১০০ শতাংশ সত্যি প্রমাণিত করল। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মাটির রাজনীতির কোনো অভিজ্ঞতা না থাকা কিছু এসি ঘরে বসা কর্পোরেট ছেলেমেয়ের ভুল রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে টিকিট বণ্টন ও রণকৌশল সাজানো হয়েছিল। যার ফলে দলের দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ কর্মী ও প্রবীণ নেতাদের মতামতকে কোনো গুরুত্বই দেওয়া হয়নি। আর তার ফলেই আজ ঘাসফুলের এই দশা।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন তৃণমূল ক্ষমতায় ছিল, ততদিন দলের নেতারা পিসি-ভাইপোর ভয়ে মুখ খোলেননি। কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ইভিএমে জবাব দেওয়ার পর এবং তৃণমূল ক্ষমতা থেকে অপসারিত হতেই ভেতরের সমস্ত ক্ষোভ বিদ্রোহের আকারে প্রকাশ্যে চলে এলো। জামিনমুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই নজিরবিহীন আক্রমণ প্রমাণ করে দিল, ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর তৃণমূলের তথাকথিত ‘নতুন কালচারের’ নেতাদের দাপট শেষ এবং দলটা এখন পুরোপুরি ভাঙনের মুখে।