প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক পরাজয় এবং নবান্ন থেকে বিদায় নেওয়ার পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই শুরু হয়ে গেল দায় ঠেলাঠেলির পালা। ক্ষমতা হারানোর পর এতদিনের চেপে রাখা ক্ষোভ এবার আছড়ে পড়ছে দলের অন্দরেই। আর সেই আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটালেন খোদ দলের একসময়ের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি তথা বর্তমানে জামিনমুক্ত প্রাক্তন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূল ক্ষমতাচ্যুত হতেই তিনি সরাসরি নিশানা করলেন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ‘অন্ধ স্নেহ’-কে।
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় অত্যন্ত ক্ষোভের সুরে জানান, ক্ষমতার অলিন্দে থেকে দলটা সাধারণ মানুষের থেকে কতটা দূরে চলে গিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সাধারণ মানুষ, নেতাদের কান্না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কানে পৌঁছায়নি। ডুবিয়েছে নতুন কালচারের নেতা।” রাজনৈতিক মহলের মতে, পার্থবাবু বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেত্রী বাস্তবের মাটি থেকে এতটাই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন যে নিজের দলেরই বিশ্বস্ত নেতাদের দীর্ঘশ্বাস শুনতে পাননি।
বিরোধী শিবির বরাবরই অভিযোগ করে আসছিল যে, ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে দলের ক্ষমতা সঁপে দিয়ে এবং কর্পোরেট এজেন্সি আইপ্যাক-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের পায়ে নিজেই কুড়ুল মেরেছেন। ক্ষমতা থেকে তৃণমূল চলে যেতেই খোদ পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গলাতেও শোনা গেল একই সুর। তিনি পরিষ্কার করে দিলেন, আইপ্যাকের রিপোর্ট আসলে ছিল ‘ভাইপোর কমেন্ট’। নেত্রীর এই ‘অন্ধ স্নেহ’ এবং ভাইপোর কর্পোরেট সংস্কৃতির অহংকারই আজকে তৃণমূলকে নবান্ন থেকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন তৃণমূল ক্ষমতায় ছিল, ততদিন দলের নেতারা ভয়ে মুখ খোলেননি। কিন্তু ২০২৬-এর নির্বাচনে সাধারণ মানুষ ইভিএমে জবাব দেওয়ার পর এবং তৃণমূল ক্ষমতা থেকে অপসারিত হতেই ভেতরের বিদ্রোহ প্রকাশ্যে চলে এলো। জামিনমুক্ত পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই নজিরবিহীন আক্রমণ প্রমাণ করে দিল, ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর তৃণমূলের তাসের ঘর এখন হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ছে। পিসি-ভাইপোর স্বৈরাচারী রাজনীতির শেষ পরিণতি যে এটাই হওয়ার ছিল, তা আজ প্রমাণিত।