প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পাপের ঘড়া যে একদিন পূর্ণ হয়, তা আবারও প্রমাণিত হলো। ক্ষমতার দম্ভে এতদিন যাঁরা ধরাকে সরা জ্ঞান করতেন, বাংলায় সুশাসনের সরকার আসতেই তাঁদের ঠাঁই হচ্ছে গারদে। গত ১৯ মে বকখালি থেকে বেআইনি অস্ত্রসহ ধরা পড়েছিল সুপুত্র তথা যুবনেতা অর্ঘ্য মণ্ডল। ঠিক তার আট দিনের মাথায়, আজ ২৭ মে ২০২৬, ওড়িশার পুরীর এক হোটেল থেকে রাজ্য পুলিশের বিশেষ টাস্ক ফোর্সের (STF) জালে ধরা পড়লেন পিতা তথা বিষ্ণুপুরের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল।নির্বাচনী হিংসা, বোমাবাজি এবং এলাকায় সন্ত্রাস সৃষ্টির একাধিক জামিন অযোগ্য মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন এই তৃণমূল নেতা। রাজ্যে ক্ষমতার বদল ঘটতেই এবং পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে তিনি তীর্থক্ষেত্রে গিয়ে আত্মগোপন করেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না।

তৃণমূল জমানার অন্যতম দোর্দণ্ডপ্রতাপ এই নেতার সাম্রাজ্যের পতনের সূচনা হয়েছিল গত সপ্তাহেই। ১৯ মে বকখালি-ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, কার্তুজ এবং নগদ টাকাসহ গ্রেফতার হয় দিলীপ মণ্ডলের ছেলে অর্ঘ্য মণ্ডল এবং তার চার সাগরেদ। ভোটের বাজারে এলাকায় রক্তগঙ্গা বইয়ে দেওয়ার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করেছিল এই যুবনেতা।ছেলের গ্রেফতারি এবং রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর নিজের ভবিষ্যৎ অন্ধকার দেখে গা-ঢাকা দেন বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দরজাতেও মাথা কুটেছিলেন তিনি। কিন্তু মাননীয় আদালত তাঁর অপরাধের গুরুত্ব বিচার করে কোনো রকম আইনি স্বস্তি দেয়নি। ফলে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে ভিনরাজ্যে পালানো ছাড়া আর কোনো পথ ছিল না এই ‘পলাতক’ নেতার।

দিলীপ মণ্ডলের গ্রেফতারির খবর বিষ্ণুপুরে পৌঁছাতেই সাধারণ মানুষের মধ্যে অকাল দীপাবলি শুরু হয়ে গিয়েছে। এতদিন এই নেতার অঙ্গুলিহেলনে এলাকায় যে সিন্ডিকেট রাজ, তোলাবাজি এবং বিরোধী রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর অত্যাচার চলত, আজ তার অবসান ঘটল।রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে বাংলায় এখন আর কোনো ‘রাজনৈতিক রঙ’ দেখে অপরাধীদের আড়াল করা হয় না। অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, নতুন জমানায় তাকে আইনের মুখোমুখি হতেই হবে। ক্ষমতা হারিয়ে তৃণমূলের যে সমস্ত নেতারা এখনও অহঙ্কার দেখাচ্ছেন, দিলীপ মণ্ডলের এই পতন তাঁদের জন্য এক বড়সড় হুঁশিয়ারি।