প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে বিদায়ী শাসকদল যে মিথ্যা ও অপপ্রচারের জাল বুনেছিল, তা ২৪ ঘণ্টাও টিকল না। “বিজেপি এলে মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ করে দেবে”— ভোটের বাজারে বিরোধীদের এই বহুল প্রচারিত কুৎসা ও ভীতিপ্রদর্শনের রাজনীতিকে কার্যত খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দিল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এবার রাজ্যের সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষের পাত আলো করে খাঁটি বাঙালি আবেগকে মান্যতা দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। মঙ্গলবার কল্যাণীর প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করলেন, রাজ্যের সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত ক্যান্টিনগুলিতে এখন থেকে সপ্তাহে দু’দিন মাত্র ৫ টাকাতেই মিলবে গরম গরম মাছ-ভাত।
বিগত বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দল বারবার দাবি করেছিলেন যে, রাজ্যে ভারতীয় জনতা পার্টি ক্ষমতায় এলে নাকি আমজনতার খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপ করা হবে, মাছ-মাংস-ডিম খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’-এর মন্ত্রে বিশ্বাসী নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেই প্রমাণ করে দিল যে, সনাতন সংস্কৃতি ও বাঙালি সত্তার মেলবন্ধন কাকে বলে। মঙ্গলবার কল্যাণীর হাইপ্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমরা প্রাথমিকভাবে আলোচনা করেছি এবং এটি কার্যকর করতে চলেছি। রাজ্যের প্রায় ৪০০টি ক্যান্টিনে এখন থেকে সপ্তাহে দু’দিন করে মাছ খাওয়ানো হবে। এবং তার জন্য কোনো অতিরিক্ত মূল্য দিতে হবে না, মাত্র ৫ টাকাতেই মিলবে এই পুষ্টিকর মাছ-ভাত।”
২০২১ সালে পূর্বতন তৃণমূল সরকার ভোটব্যাঙ্কের স্বার্থে এই ‘মা ক্যান্টিন’ প্রকল্প চালু করলেও, সেখানে নামমাত্র ডাল-সবজির সঙ্গে বরাদ্দ ছিল কেবল একটি সেদ্ধ ডিম। দিনের পর দিন একই মেনু খেয়ে সাধারণ মানুষের পুষ্টির অভাব ঘটছিল। উপরন্তু, ক্ষমতা বদলের সন্ধিক্ষণে রাজ্যের বহু জায়গায় এই ক্যান্টিনগুলির জোগান বন্ধ হয়ে যাওয়ার খবর সামনে আসছিল। সাধারণ মানুষের সেই কষ্ট দূর করতে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।রাজ্যের প্রায় ৪০০টি সরকারি ভর্তুকিপ্রাপ্ত ক্যান্টিনে খাবারের গুণমান আমূল উন্নত করা হচ্ছে। আগের একঘেয়ে ডিম-ভাতের বদলে সপ্তাহে নির্দিষ্ট ২ দিন সম্পূর্ণ পুষ্টিকর মাছ-ভাত পরিবেশন করা হবে।মূল্যবৃদ্ধির বাজারেও দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবার, দিনমজুর ও শ্রমিকদের পকেটের কথা মাথায় রেখে দাম রাখা হয়েছে মাত্র ৫ টাকা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী কেবল বিরোধীদের মুখের ওপর সপাটে জবাব দিলেন না, বরং প্রান্তিিক মানুষের পুষ্টি ও উদরপূর্তির দায়িত্বও নিজের কাঁধে তুলে নিলেন। শুধু খাবারের মেনু বদলই নয়, আমজনতার অভাব-অভিযোগ সরাসরি শুনতে আগামী সপ্তাহ থেকেই রাজ্যজুড়ে মহাসমারোহে শুরু হতে চলেছে ‘আপনার সরকারকে বলুন’ নামক নতুন জনসংযোগ কর্মসূচি। সব মিলিয়ে, কুৎসা ও ভ্রান্ত ধারণার অবসান ঘটিয়ে বাংলার নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকার বুঝিয়ে দিল— কথা নয়, অন্ত্যোদয় ও জনকল্যাণই এই সরকারের আসল লক্ষ্য। মাছে-ভাতে বাঙালির চিরাচরিত ঐতিহ্য এবার সুরক্ষিত ও সমাদৃত খোদ সরকারি ব্যবস্থাপনায়।