প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পঠনপাঠন এবং গবেষণার জায়গা, নাকি রাজনৈতিক নেতাদের বিলাসবহুল প্রমোদকানন? আজ, বুধবার দুপুরে বিকাশ ভবনে প্রথমবার পা রেখেই রাজ্যের শিক্ষা ক্ষেত্রকে গ্রাস করা এক চরম অরাজকতার বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করলেন নতুন উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সাম্প্রতিক অতীতে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের মতো স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিলাসবহুল ‘এসি বেডরুম’ বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত শয়নকক্ষ গড়ে তোলার যে নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি সামনে এসেছিল, তা নিয়ে আজ তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন মন্ত্রী। সাফ জানিয়ে দিলেন, কলেজে কলেজে গড়ে ওঠা এই সমস্ত বেআইনি ‘ঘুঘুর বাসা’ এবার ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।

রাজনৈতিক ও শিক্ষা মহলের মতে, বিগত বছরগুলোতে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে রাজনৈতিক আখড়া এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের কেন্দ্র বানিয়ে ফেলা হয়েছিল, মন্ত্রীর এই কড়া অবস্থান তারই বিরুদ্ধে এক চরম আঘাত। আজ দায়িত্ব নেওয়ার পরেই আধিকারিকদের সাথে প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক সেরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন সিউড়ির বিধায়ক তথা নবনিযুক্ত মন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় কটাক্ষ করে বলেন, যেখানে কলেজের ভেতরে উন্নত লাইব্রেরি, আধুনিক ল্যাবরেটরি এবং পঠনপাঠনের সুস্থ পরিবেশ থাকার কথা ছিল, সেখানে এই ধরণের সরকারি টাকায় ব্যক্তিগত বিলাসিতা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পবিত্রতা নষ্টকারীদের দিন এবার শেষ।

আজকের এই কড়া বার্তার পর স্পষ্ট যে, নতুন সরকার শিক্ষা ক্ষেত্রে কোনো রকম স্বজনপোষণ বা অনিয়মকে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না। শিক্ষামন্ত্রী আজ দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, কলেজে কলেজে আর্থিক অনিয়ম এবং পরিকাঠামোগত বিলাসিতার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তার ওপর কড়া নজরদারি চালানো হবে। কোনো একনায়কতন্ত্র নয়, এবার থেকে শিক্ষাদপ্তর চলবে একটি দায়বদ্ধ ‘টিম’ হিসেবে, যেখানে প্রতিটি কলেজের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। মন্ত্রীর এই ঝাঁঝালো ও নীতিগত অবস্থান বুঝিয়ে দিল, বাংলার শিক্ষা ক্ষেত্রকে দুর্নীতি ও বিলাসিতার অন্ধকার থেকে মুক্ত করে আবার সুস্থ পড়াশোনার মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনাই এখন নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।