প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলন! শিল্প আসুক ছাই আসুক, বাংলার কোষাগার খালি করে ঢাক-ঢোল পেটানোর মহোৎসবে খামতি ছিল না প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু সেই জাঁকজমকের আড়ালে যে কত বড় আর্থিক লুটের সাম্রাজ্য গড়ে উঠেছিল, তা এবার হাড়হিম করা তথ্যের সাথে সামনে নিয়ে এল রাজ্যের বর্তমান বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকা নিয়ে এই নয়ছয় কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
অভিযোগের তির অত্যন্ত স্পষ্ট এবং মারাত্মক। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ একটি তথাকথিত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এবং বিজ্ঞাপন সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়া হয়েছে বিপুল অঙ্কের সরকারি অর্থ। তদন্তে দেখা যাচ্ছে, মাত্র কয়েকটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ধাপে ধাপে মোট ৬৩৫ কোটি টাকা ওই নির্দিষ্ট সংস্থাকে হস্তান্তর করা হয়েছিল। শিল্পের নামে বাংলায় কোনো বিনিয়োগ না এলেও, ওই বিশেষ সংস্থার পকেটে যে কোটি কোটি টাকার ‘বিনিয়োগ’ হয়েছে, তা এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার।
রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর মানুষ যে দুর্নীতির অবসান চেয়েছিল, সে কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই তাঁর ঝাঁঝালো বার্তা— “এটা আমরা ছাড়ব না, ছাড়ার জন্য তো মানুষ বসায় নি।” মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন: এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নয়ছয়ের বিরুদ্ধে রাজ্য সরকারের তরফে অবিলম্বে কড়া আইনি মামলা দায়ের করা হচ্ছে। ২০টি অত্যন্ত সন্দেহজনক এবং রহস্যময় লেনদেনের ফাইল ইতিমধ্যেই খতিয়ে দেখা শুরু হয়েছে।যেহেতু এটি বড়সড় আর্থিক তছরুপ এবং মানি লন্ডারিংয়ের সমতুল্য, তাই প্রয়োজনে দেশের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে (Central Agencies) এই দুর্নীতির জাল ছিঁড়ে ফেলার দায়িত্ব দেওয়া হবে।
খালি বুলি নয়, প্রাক্তন জমানার দুর্নীতি উপড়ে ফেলতে ইতিমধ্যেই আইনি পথে কোমর বেঁধে নেমেছে বর্তমান সরকার। কাটমানি ও সরকারি তহবিল লোপাটের তদন্তে গঠিত হয়েছে বিশেষ কমিটি। ফলে, শুধু মুখের কথায় দায় এড়ানো এবার আর সম্ভব হবে না।বছরের পর বছর ধরে যুবকদের চাকরি না দিয়ে, রাজ্যের দেনা বাড়িয়ে, কোন ম্যাজিকে একটি সংস্থাকে ৬৩৫ কোটি টাকা দিয়ে ধন্য করা হলো, তার জবাব এবার আইন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েই দিতে হবে প্রাক্তন শাসকদলের কর্তাদের। বাংলার মানুষ এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা করছেন— কবে এই লুটের টাকার হিসেব কড়ায়-গণ্ডায় আদায় হয়।